বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কথা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দু’টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। চীনা প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগমুহূর্তে তিনি এই আদেশ দিলেন।
একটি নির্বাহী আদেশে বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতির কারণ অনুসন্ধান করতে অপরিশোধিত শুল্ক খতিয়ে দেখতে একটি গবেষণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর আদেশে বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি ও কোনও আইনে মার্কিন শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে কিনা, তা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছে, চীনের জন্য এই নির্বাহী আদেশ দেওয়া হয়নি। তবে চীনের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ওই দু’টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।
সামনের সপ্তাহে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। তার আগেই এসব আদেশ জারি করা হলো। ট্রাম্প বলেছেন, এসব পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য উৎপাদনের পরিবেশ ফিরে আসবে। বিশেষ করে দেশটির যে বিশাল বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে, তা মোকাবিলায়ও তা সহায়ক হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এমন কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে, যার ফলে, বিদেশি পণ্য নির্মাতারা আর তাদের পণ্য অন্যায্য দামে এখানে বিক্রি করতে পারবে না।’ এর ফলে অর্ধ লক্ষ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা করছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস বাণিজ্য খাতে ট্রাম্পের পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেন, ‘এসব পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাসী দেখবে, তিনি এমন এক প্রেসিডেন্ট, যিনি তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন।’
উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। তবে তা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায় ২০১২ সালে। মার্কিন বাণিজ্য দফতর জানিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে অর্ধ লক্ষ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
/এসএ/বিএ/








