তিন মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে নোবেল পদক গ্রহণ করলেন মার্কিন সংগীতশিল্পী বব ডিলান। সুইজারল্যান্ডের স্টকহোমে এক একান্ত অনুষ্ঠানে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। সুইডিশ সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি খবরটি নিশ্চিত করেছে। এর আগে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে সুইডিশ একাডেমির সম্পাদক একটি ব্লগ পোস্টে জানিয়েছিলেন যে ‘অনুষ্ঠানটি হবে খুবই ছোট’ এবং ডিলানের অনুরোধে সেখানে কোন গণমাধ্যম উপস্থিত থাকবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের অক্টোবরে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য বব ডিলান-এর নাম ঘোষণা করা হয়। সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে নতুন কাব্যিক ব্যঞ্জনা সৃষ্টির স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মানে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেয় নোবেল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথমবারের মতো কোনও মার্কিন নাগরিক সাহিত্যে নোবেল পান। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য বিজয়ী হলেও তা গ্রহণ করতে তিন মাসেরও বেশি সময় পার করে দেন ডিলান। তার আগে পুরস্কারপ্রাপ্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতেও অনেকটা সময় পার করে দিয়েছিলেন এ সংগীতশিল্পী। এমনকি নোবেলের ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার সমমূল্যের অর্থ নেওয়ার জন্য যে বক্তব্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেটিও এখন পর্যন্ত দেননি তিনি। এমনকি নোবেল পদক নেওয়ার সময়ও ডিলান বক্তব্য দেবেন না বলে আগেই আভাস দিয়েছিল নোবেল কমিটি।
প্রথাগতভাবে পুরস্কারের অর্থ গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে ঐ বক্তৃতা দিতে হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বব ডিলান তার রেকর্ডকৃত একটি বক্তব্য সুইডিশ একাডেমির হাতে তুলে দেবেন। জুনের মধ্যে তিনি যদি তার বক্তৃতা না দেন, তবে পুরস্কারের অর্থ তিনি আর পাবেন না।
সুইডিশ একাডেমির এক সদস্য বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি খুব ভালো হয়েছে’, এবং ৭৫ বছর বয়স্ক ডিলান একজন ‘খুবই চমৎকার এবং দয়ালু মানুষ’।
পুরস্কার গ্রহণের পর শনিবার সন্ধ্যায় স্টকহোম ওয়াটারফ্রন্ট ভেন্যুতে একটি কনসার্ট করেন ডিলান। রবিবার সন্ধ্যায় আরও একটি কনসার্ট করার কথা রয়েছে তার।
রবার্ট অ্যালেন জিমার নামের এই গায়ক-গীতিকার, সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রকর ইংরেজ কবি ডিলন টমাসের কাছ থেকে বব ডিলান নামটি ধার করেন। ডিলানকে বলা হয় রক গানের বিদ্রোহী রাজা। গত পঞ্চাশ বছর ধরে জীবনের জন্য গান গেয়ে যাচ্ছেন তিনি। কেবল সঙ্গীতজ্ঞ নন তিনি, একইসাথে ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মী এবং যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ডিলানের গানের কথা মূলত রাজনীতি, সমাজ, দর্শন ও সাহিত্যিক প্রভাব সম্বলিত। এই শিল্পী, গীতিকার খ্যাতির তুঙ্গে পৌঁছান গত ষটকের ষাটের দশকে। হাতে গিটার আর গলায় ঝোলানো হারমোনিকা হয়ে ওঠে তার ট্রেডমার্ক। সে সময় তার ‘ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’ আর ‘দ্য টাইমস দে আর আ-চেইঞ্জিং’ এর মত গানগুলো পরিণত হয়েছিল যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের গণসঙ্গীতে।
/এফইউ/








