সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিবে রাসায়নিক হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে ফ্রান্স। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-মার্ক আয়রাল্ট এ আহ্বান জানান। সিরিয়ার ইদলিবের এ হামলাকে ‘ন্যাক্কারজনক’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল)) সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল ইদলিবে সম্ভাব্য রাসায়নিক গ্যাস হামলা সংঘটিত হয়। হামলায় ৫৮ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে ১১ জন শিশুও রয়েছে যাদের বয়স আট বছরের কম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এবং চিকিৎসা কর্মীদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স হতাহতের সবশেষ সংখ্যা নিশ্চিত করে। সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, ওই হামলায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। তবে ইদলিবের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আহতের সংখ্যা ৩০০ বলে উল্লেখ করেছে।
মেডিক্যাল সূত্রকে উদ্ধৃত করে সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, হামলার কারণে অনেকের শ্বাসরুদ্ধ হয়, কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, কারও কারও আবার মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে আসে। ওই মেডিক্যাল সূত্র জানিয়েছে, এটি রাসায়নিক গ্যাস হামলা ছিল বলে আলামত মিলেছে।
হামলার পর এর নিন্দা জানান ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-মার্ক আয়রাল্ট। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সকালে ইদলিব প্রদেশে নতুন বিশেষ করে গুরুতর রকমের একটি রাসায়নিক হামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, শিশুসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি এ ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই।’
এ ঘটনায় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করে তিনি আয়রাল্ট বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মুখে দাঁড়িয়ে আমি সবাইকে আহ্বান জানাব, তারা যেন দায়িত্ব থেকে সরে না আসে। এ কথাটি মাথায় রেখে আমি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করছি।’
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে চায় তা স্পষ্ট নয়।
ছয় বছরের সংঘাত চলাকালে রাসায়নিক হামলা চালানোর অভিযোগে সিরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসময় ওই খসড়া প্রস্তাবটিকে ‘পুরোপুরি অযথার্থ’ উল্লেখ করে ভেটো দেয় রাশিয়া। চীনও রাশিয়াকে সমর্থন জানিয়েছিল।
মঙ্গলবারের এ হামলাকে ২০১৩ সালের আগস্টে চালানো সারিন গ্যাস হামলা পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ রাসায়নিক হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ওই হামলায় কয়েকশো মানুষ নিহত হয়। হামলার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছিল সরকার ও বিদ্রোহীরা।
তবে মঙ্গলবার এক সেনাসূত্র দাবি করেছেন, সরকারি বাহিনী কোনও রাসায়নিক হামলা চালায়নি। ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যাকে বিদ্রোহীদের প্রপাগান্ডা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
/এফইউ/








