খ্যাতনামা সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর খালেদা জিয়াকে তালাক দিতে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি সেটা করেননি। গত সপ্তাহে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদীম কাদিরের লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধ: অজানা অধ্যায়’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী এ কথা বলেন।
আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন বারবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান, তখন জেনারেল জিয়া আমাকে বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ হলে তিনি তাকে তালাক দিবেন। তবে বঙ্গবন্ধুর হস্তক্ষেপের কারণে তিনি তা করেননি।’
জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যুদ্ধকালীন সময়ে একই কক্ষে কিছু সময় কাটানোর অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী। এ সময় তিনি ঘণ্টাখানেক সময় নিয়ে তার চুল ঠিক করার কথাও উল্লেখ করেন।
‘মুক্তিযুদ্ধ: অজানা অধ্যায়’ শিরোনামের বইটিতে লেখক নাদীম কাদির তার মা হাসনা হেনা কাদিরকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, জেনারেল জিয়া যুদ্ধের আগে তার শহীদ বাবা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম. আবদুল কাদিরকে বলেছিলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কোনও গ্যারান্টি নেই... আমি তোমাদের সঙ্গে নেই।’
নিখোঁজ বাবার জন্য তার মায়ের গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন নাদীম কাদির। তিনি বলেন, ৩৬ বছর ধরে তার নিখোঁজ বাবার খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রেখেছিলেন তার মা হাসনা হেনা কাদির।
নাদীম কাদির বলেন, ‘কখনও এটা ছিল আশাব্যঞ্জক, এরপর আবার হতাশা। কিন্তু আমি হাল ছেড়ে দেইনি। আমি মাকে ধন্যবাদ জানাই। ১৯৯৯ সালে তার মৃত্যু হয়।’
এই বইটির বরাত দিয়ে আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত-রাজনৈতিক ঘটনা; যা পক্ষপাতদুষ্ট নয়। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং নিজ পরিবারের প্রতি নাদীম কাদির যে আনুগত্য দেখিয়েছেন তা প্রশংসনীয়।’
বইটি প্রকাশ করেছে জাগৃতি প্রকাশনী। বইটিতে উঠে এসেছে বাবার কবরের খোঁজে লেখকের ৩৬ বছরের অনুসন্ধানের বিশদ বিবরণ।
২০০৭ সালে বাবার কবর খুঁজে পান নাদীম কাদির। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় এবং সামরিক মর্যাদায় তার বাবাকে নাটোরের কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টে পুনরায় সমাহিত করা হয়। শহীদ বুদ্ধিজীবি কর্নেল কাদিরের নামে এ ক্যান্টনমেন্টের নামকরণ করা হয়।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাজমুল কাওনাইন, প্রবীণ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাংবাদিক ইসহাক কাজল, এশিয়ান এজ-এর সহযোগী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আহসান, লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা, সাবেক সভাপতি নবাব উদ্দীন প্রমুখ অংশ নেন।
হাই কমিশনার নাজমুল কাওনাইন বলেন, ‘সবার উচিত তাকে অনুসরণ করা এবং এ ধরনের আরও বই থাকা উচিত।
/এমপি/







