সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে দেশটির কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ওয়াইপিজি’কে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর আদ্রিয়ান রেনকাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো অস্ত্রের প্রথম চালানের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর ছোট অস্ত্রের বাইরে কিছু যানবাহনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি মাসের গোড়ার দিকে সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তুরস্কের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করা হয়। তবে মঙ্গলবার পেন্টাগনের এ সংক্রান্ত বিবৃতির পর তুরস্কের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ওয়াইপিজি’কে অস্ত্র দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে তুরস্ক। সম্প্রতি তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়েলদ্রিম সাংবাদিকদের বলেছেন, পিকেকে গোষ্ঠীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লাভবান করে এমন কোনও উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। এই সিদ্ধান্ত যদি তুরস্কের জন্য নেতিবাচক হয়, তাহলে আমেরিকার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রপন্থী বিদ্রোহীদের জোট এসডিএফ-এর প্রধান শক্তি ওয়াইপিজি। এটি তুরস্কের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী পিকেকে-এর সিরীয় শাখা। কুর্দিশ জাতীয়তাবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত পিকেকে তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার অংশবিশেষ নিয়ে কুর্দিস্তান নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। ১৯৮৪ সাল থেকে এ বিদ্রোহে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ফ্রেব্রুয়ারিতে আঙ্কারায় ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলায় নিহত হন অন্তত ২৮ জন। ওই হামলার জন্য সিরিয়ার ওয়াইপিজি’কে দায়ী করে তুরস্ক।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে অবশ্য ইতোপূর্বে বলা হয়েছে, ওয়াইপিজি’কে অস্ত্র সরবরাহের ঘটনায় তুরস্কের উদ্বেগ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সজাগ রয়েছে। তুর্কি সরকার ও জনগণকে আমরা আবারও নিশ্চিত করতে চাই যে, ন্যাটো মিত্র তুরস্কের ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূত্র: আল জাজিরা।
/এমপি/








