ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র যে চোখে দেখে, সেই চোখ দিয়ে তাদের দেখতে রাজি নয় কাতার। দেশটির পরনরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি এই কথা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় রুশ সম্প্রচারমাধ্যম রাশিয়া টুডে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। তবে হামাসকে সমর্থন যুগিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন আব্দুলরহমান।
রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের অংশ হিসেবে মস্কো সফরে রয়েছেন আব্দুলরহমান। রাশিয়া টুডের সঙ্গের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাদবাকী আরব বিশ্বের কাছে হামাস স্পষ্টত একটি বৈধ সংগঠন, যারা মুক্তিকামী প্রতিরোধ আন্দোলনে জড়িত।’
উল্লেখ্য, আরববিশ্বে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর স্পষ্ট হয় ১৯৮৭ সালে। ইন্তিফাদা নামের সেই সময় শুরু হওয়া গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরের বছর হামাসের আত্মপ্রকাশ। ধর্মভিত্তিক সংগঠনের পরিচয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে দলটির। হামাসের প্রাথমিক ঘোষণাপত্র ছিল ইহুদিবিদ্বেষে ঠাঁসা। তবে দলটি ফিলিস্তিনিদের জাতিরাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা জোরালো করে তুলতে শুরু করার পর সেই পরিস্থিতির সমান্তরালে বদলে যেতে থাকে হামাস। এক পর্যায়ে ফিলিস্তিনি মুক্তির সংগ্রামই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান অঙ্গীকার।
তবে গত বুধবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের বলেন, ‘আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে গেলে হামাসকে অবশ্যই সন্ত্রাসী সংগঠন হামাস এবং মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন যোগানো বন্ধ করতে হবে। হামাসকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (ফাতাহ) বিরোধী শক্তি হিসেবেও উল্লেখ করে সৌদি আরব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘তাদের কর্মকাণ্ড ভালো চোখে দেখা হচ্ছে না। কাতারকে অবশ্যই মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে হবে।’
তবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুলরহমান বলেন, ‘কাতারে হামাসের উপস্থিতির মানেই যে কাতার তাদের সমর্থক তা নয়।’ সৌদি অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, হামাসের উপস্থিতি তাদের নিজেদের রাজনৈতিকতা মাত্র।’
বৃহস্পতিবার তিনি বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি ঐক্য আনতেক যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
২০১৬ সালের শেষ দিকে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান হিসেবে খালিদ মিশআল-এর মেয়াদ শেষ হয়। চলতি বছর মে মাসে অপেক্ষাকৃত উদারপন্থী নতুন রাজনৈতিক দলিল উপস্থাপনের পর এবার দলের শীর্ষপদে রদবদল আনে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই সংগঠন। দলের রাজনৈতিক শাখার প্রধান হিসেবে খালিদ মিশআল-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ফিলিস্তিনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়া। ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি ফিলিস্তিনের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয় হামাস। ২৯ মার্চ দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলন ইসমাইল হানিয়া।
১ মে ২০১৭ সোমবার নতুন রাজনৈতিক দলিল প্রকাশ করে হামাস। এতে দলের অবস্থানগত কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর অন্যতম হচ্ছে, ১৯৬৭ সালের সীমানা মেনে নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দিয়েছে হামাস।
/বিএ/








