সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে দোহার যে কূটনৈতিক সংকট শুরু হয়েছে রাতারাতি তার সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আলে সানি তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় স্বাগতিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ-এর খবর থেকে এসব কথা জানা গেছে।
গত ৫ জুন সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ। সম্পর্ক পুনর্গঠনে কাতারেক ১৩টি শর্তও বেঁধে দেয় সৌদি জোট। সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা করার লক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মধ্যপ্রাচ্য সফর কোনও ফলাফল আনেনি। এমন প্রেক্ষাপটে দোহার তরফ থেকে মন্তব্যটি আসলো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান সৌদি জোটের সঙ্গে তার দেশের মতবিরোধকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ সংকট’ বলে অভিহিত করেন।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন কাতার ও সৌদি আরব সফর করেন। তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন। তবে তার সেসব প্রচেষ্টায় কোনো ফল হয়নি। এমন বাস্তবতায় কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঙ্কারার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তার দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে সৌদি সরকারের অভিযোগ আবারও প্রত্যাখ্যান করেন। এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত ‘একটি প্রমাণও’ উপস্থাপন না করার জন্য সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করেন তিনি।
কাতারে মোতায়েন ১৫০ তুর্কি সেনাকে বহিষ্কারের সৌদি দাবি প্রত্যাখ্যান করে আব্দুররহমান আলে সানি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে এটি অবৈধ নয় বলে এ দাবি মেনে নেয়া দোহার পক্ষে সম্ভব নয়। সংবাদ সম্মেলনে কাতারস্থ তুর্কি সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেয়ার সৌদি দাবি ‘অগ্রণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চাভুসওগ্লু বলেন, তুরস্ক ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে তৃতীয় দেশের নাক গলানোর কোনো সুযোগ নেই।
/বিএ/








