মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু যুদ্ধ বাঁধিয়ে সব মার্কিনিকে মেরে ফেলবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির ডকুমেন্টারি বা দলিলচিত্র নির্মাতা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল মুর। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ‘জ্ঞানহীন’ কর্মকাণ্ডে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে ‘মানুষরূপী বোমা’ আখ্যা দিয়েছিলেন ‘ফারেনহাইট নাইন ইলেভেন’খ্যাত সাড়া জাগানো ওই মার্কিন তথ্যচিত্র নির্মাতা।
একাধারে নির্মাতা, পরিচালক, লেখক, অভিনেতা, সমাজ সমালোচক ও কর্মী হিসেবে পরিচিত মাইকেল মুরের পরিচিতি যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রথম সারির অ্যাস্টাব্লিশমেন্ট-বিরোধী ব্যক্তি হিসেবে। নানা সময়ে তথ্যচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তিনি গ্লোবালাইজেশন, বৃহৎ কর্পোরেট পুঁজি, ইরাক যুদ্ধ, পুঁজিবাদ ইত্যাদি বিষয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ২০০৪ সালে টুইন টাওয়ার ট্র্যাজিডির ওপর নির্মিত তাঁর ‘ফারেনহাইট ৯/১১’ ছবিটি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় তোলে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাজনীতির বর্তমান হালচাল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেন মুর। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যেকার বিরাজমান উত্তেজনা নিরসনে তৎপর হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার কারণে পরমাণু যুদ্ধ বেধে যেতে পারে বলেও পরোক্ষ আভাস দেন মাইকেল মুর। ট্রাম্পের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ লোকটি আমেরিকা সবাইকে মেরে ফেলবে। ট্রাম্পের হাতে পরমাণু হামলার গোপন সংকেত রয়েছে।’ পেন্টাগনের কেউ মার্কিন নাগরিকদের রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন বলে ২০১৬ সালে সফল ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন মাইকেল মুর। এ নিয়ে নিজের শঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। সে সময় ট্রাম্পকে ‘মানুষরূপী বোমা’ আখ্যা দিয়েছিলেন মুর। তিনি বলেছিলেন, তাকে ভোট দেওয়া সন্ত্রাসবাদকে পুষ্ট করার সামিল। সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম ডেমোক্র্যাসি নাউ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজ দেশের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচক মুর বলেছিলেন, ‘ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া অনেকটা ব্রেক্সিটের মতো। তাকে ভোট দেওয়ার অর্থ সন্ত্রাসবাদকে আইনি সমর্থন দেওয়া।’
মুরের জন্ম ১৯৫৪ সালের ২৩ এপ্রিল। ডেনভারের ফ্লিন্ট এলাকায়। বেড়ে উঠেছেন ডেভিসনে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পরে লেখাপড়া শেষ না করে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে ‘রজার অ্যান্ড মী’ নামের ডকুমেন্টারি নির্মাণের মাধ্যমে হলিউডের জগতে পা রাখেন। এটি সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানজনক অ্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়। ছবিটি ফ্রান্সে আয়োজিত কান উৎসবে পাম ডি অর জিতে নেয়। ২০০৭ সালে তাঁর পরিচালিত ‘সিকো’ ছবিটিতে মার্কিন হেলথ কেয়ার সিস্টেমের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। এই ছবিটি সে বার সেরা ডকুমেন্টারি ফিচার বিভাগে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) নমিনেশন পেয়েছিল। ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলনের একজন দৃঢ় সমর্থক তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পরও ট্রাম্পের বিরোধিতা করে যাচ্ছেন মুর।
/বিএ/








