জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরিভিত্তিতে তহবিল প্রয়োজন। শরণার্থীদের খাবার, আশ্রয়স্থল, পানি, স্যানিটেশন সুবিধা, স্বাস্থ্য সেবা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, ইতোমধ্যেই শরণার্থীরা বহু কষ্ট ভোগ করেছেন। সাহায্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে নিজ দেশ থেকে পালিয়ে আসা এই মানুষগুলো আরেকটি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতায় এমন পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে তিন দিনের মিশনে অংশ নেন জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক মার্ক লোকক এবং ইউনিসেফ-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক। মিশন শেষে বুধবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাতের পর তারা জাতিসংঘ ও ইউনিসেফ-এর এমন মূল্যায়নের কথা জানান। এ সময় তারা বাংলাদেশের অসাধারণ উদারতার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানসিকতাকে 'মানবতার অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত' হিসেবে উল্লেখ করেন।
তারা বলেন, ২৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ মানুষ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে। তাদের জন্য বাংলাদেশের নেতৃত্ব ‘মানবতার একটি অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত।’ মানবিক সহায়তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে জাতিসংঘ তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিন দিনের মিশনে জাতিসংঘ ও ইউনিসেফ-এর এ দুই কর্মকর্তা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেন। শরণার্থীদের বসবাসের অবস্থা অবলোকন করেন। তারা জানান, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর পরিস্থিতির যে উন্নতি হয়েছে তাতে তারা অভিভূত। তবে তারা সেখানে মানবিক সাহায্যকর্মীদের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
জাতিসংঘ ও ইউনিসেফের দুই কর্মকর্তাই রোহিঙ্গাদের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি এখনও মিয়ানমার থেকে লোকজনের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অব্যাহত রয়েছে।
মিয়ানমার সরকারের প্রতি রাখাইন রাজ্যে পরিপূর্ণ ত্রাণ তৎপরতার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই দুই কর্মকর্তা।
রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের ৪৩৪ মিলিয়ন ত্রাণ সাহায্যের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নতুন ১২শ শরণার্থীর জন্য স্থাপনা নির্মাণে অতিরিক্ত ১২ মিলিয়ন ডলারের তহবিল দিয়েছে সেন্ট্রাল ইমারজেন্সি রিলিফ ফান্ড (সিইআরএফ)।
এখনও রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবশিষ্ট মানুষকে তাড়িয়ে দিতে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে থাকা রোহিঙ্গা স্রোত আরও জোরালো হয়েছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, এখনও রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গারাও বাংলাদেশে চলে আসবে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই থাকা ৯ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে সেখানকার অবশিষ্ট ৩ লাখ রোহিঙ্গা যুক্ত হয়ে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১২ লাখে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
/এমপি/








