মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করতে জাতিসংঘকে সবুজ সংকেত দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর আগে সরকারের অসহযোগিতার মুখে সেখানে দুই মাসের জন্য খাদ্য, পানীয় ও জরুরী ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় জাতিসংঘ। তবে শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) দেশটির কর্তৃপক্ষের নতুন এ মনোভাবের কথা জানিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মুখপাত্র বেট্টিনা লুয়েশের। তিন বলেন, মিয়ানমারের সংঘাতকবলিত রাখাইন রাজ্যে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি শুরুর ব্যপারে দেশটির কর্তৃপক্ষ সবুজ সংকেত দিয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ত্রাণ তৎপরতা পুনরায় চালু করতে কতদিন সময় লাগতে পারে বা এ কর্মসূচি কতদিন চলবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানাননি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’র এ কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনও পর্যন্ত আলাপ আলোচনার মধ্যে রয়েছে। কারণ, সেখানে কী ঘটছে সেটা আমাদের আগে জানতে হবে। ঘটনাস্থলে না গিয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এর আগের দফায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ত্রাণ হিসেবে রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম ও স্থানীয় বৌদ্ধদের মধ্যে খাবার সামগ্রী বিতরণ করেছিল। সেখানকার ১ লাখ ১০ হাজার মানুষকে এই ত্রাণ সরবরাহ করা হয়।
এদিকে রাখাইনে বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের পুনর্বাসন পরিকল্পনায় সহযোগিতার খবর অস্বীকার করেছে জাতিসংঘ। মিয়ানমার সরকারের এ প্রকল্পে জাতিসংঘ সহায়তা করছে এমন দাবি করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
জাতিসংঘের আবাসন সংস্থা ইউএন হ্যাবিট্যাট জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের আবাসন প্রকল্পে জাতিসংঘের সহযোগিতার খবরটি সত্য নয়।
এই ঘটনায় মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের আচরণের সমালোচনা করেছিল জাতিসংঘ।
২৫ আগস্ট রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ চালানো শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এখনও হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আসতে না পেরে খাদ্যাভাবে দিন কাটাচ্ছে রাখাইনে। কারণ তাদের ফসল ও বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার দাবি করে, জাতিসংঘর আবাসন বিষয়ক সংস্থা রাখাইনে বাস্তুহারাদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা করতে একমত হয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছ।
মিয়ানমারের জাতিসংঘের আবাসন বিষয়ক সমন্বয়কের মুখপাত্র স্তানিস্লাভ সালিং বলেন, চলতি সপ্তাহে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা বৈঠক করলেও এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। রয়টার্সকে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় তিনি বলেন, জাতিসংঘের আবাসন মিশন এই পুনর্বাসের উপর জোর দিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সসম্মানে ফিরিয়ে নিয়ে এসে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করা উচিত। আন্তর্জাতিক নীতি ও আদর্শ মেনে মিয়ানমার সরকারের পুনর্বাসনের উদ্যোগকে জাতিসংঘ স্বাগত জানায় বলেও জানান তিনি।







