ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি সামরিক আগ্রাসন’ চালাচ্ছে ইরান। হুথিরা তেহরানের সরাসরি কমান্ডের অধীনে কাজ করছে। এটিকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। যথাসময়ে এবং যথাযথ পন্থায় তাদের এসব কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রিয়াদের রয়েছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তার এমন বক্তব্য উঠে এসেছে। একই রকমের বক্তব্য এসেছে ইয়েমেনে হামলা চালানো সৌদি জোটের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও।
এর আগে শনিবার সৌদি ভূখণ্ডে ইয়েমেনের হুথিদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
এদিকে সোমবার সিএনএন’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের অভিযোগ করেছেন, ইয়েমেনের হুথি অধ্যুষিত এলাকা থেকে সৌদি ভূখণ্ডে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ।
সৌদি আরবের অভিযোগ অবশ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরবের অভিযোগ অযৌক্তিক ও উস্কানিমূলক। এ ধরনের বানোয়াট অভিযোগের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সৌদি আরেবের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুররেজা রাহমানি ফাজলি। তিনি বলেছেন, তেহরান যদি কখনও হুমকির সম্মুখীন হয় অর্থাৎ কোনও পক্ষ যদি ইরানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত রেড-লাইন অতিক্রম করে; তাহলে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।
উল্লেখ্য, ৪ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার সৌদি আরবের কিং খালেদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে সৌদি বিমান বাহিনীর দাবি, তারা আকাশেই সবগুলো মিসাইল ধ্বংস করেছে।
কয়েকজন সৌদি নাগরিক বিবিসি’কে জানিয়েছেন, তারা বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছেন। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে বিস্ফোরিত হয়েছে। যার পাঁচটি খণ্ড মাটিতে আছড়ে পড়ে গর্ত তৈরি করেছে। এর আগেও হুতি বিদ্রোহীদের মিসাইল ধ্বংস করেছে সৌদি আরব। তাদের হাতে বেশ কিছু স্কাড মিসাইলও রয়েছে।
২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেন সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার ইয়েমেনি নাগরিক। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। সূত্র: বিবিসি।








