এখনই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবে যা হয়েছে তা নিজের মধ্যেই রাখতে চাই।’ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি সৌদি আরব সফরকালে নিজের পদত্যাগের ঘোষণার পর দেশে ফিরে তা স্থগিত করেন হারিরি। এরপর সোমবার (২৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম সি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হারিরি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ যদি তার স্থান থেকে সরে না দাঁড়ায় তবে আমি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিবো। এছাড়া ভবিষ্যতে পরামর্শের ভিত্তিতে সরকারের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে এবং আমরা প্রাথমিক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
গত ৪ নভেম্বর সৌদি সফরে গিয়ে আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাদ হারিরি। পদত্যাগের কারণ হিসেবে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী সংগঠন হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন তিনি। হারিরি বলেছিলেন, খুন হওয়ার ভয়েই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, সৌদি আরবের চাপেই পদত্যাগ করেছেন তাদের মিত্র হারিরি। হিজবুল্লাহ’র মুখোমুখি হতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ‘সরিয়ে দিয়েছে’ সৌদি কর্তৃপক্ষ।
তবে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত মেনে নেননি লেবানিজ প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন। তিনি জানিয়েছিলেন, দেশে ফিরে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। এরপর দেশে ফিরেই সাদ হারিরি জানান, পদত্যাগ করছেন না তিনি।
অন্যদিকে ২ নভেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন অভিযানের নামে ১১জন প্রিন্সসহ প্রায় ২০০ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময়ই পদত্যাগের ঘোষণা দেন হারিরি। বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে অভ্যন্তরীণ কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করতে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান, অন্যদিকে আঞ্চলিক আধিপত্য জোরদারে লেবানন ও ইয়েমেনকে ইরানবিরোধী ছায়াযুদ্ধের নাট্যমঞ্চ বানায় সৌদি আরব।








