মধ্যপ্রাচ্যে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে সৌদি আরব ইরানকে শত্রু হিসেবে দাঁড় করিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। মঙ্গলবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে রুহানি এমন দাবি করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সাক্ষাৎকারে হাসান রুহানি বলেন, সৌদি আরবের মতো দু’একটি দেশ ছাড়া রাশিয়া, তুরস্ক, ইরাক, কাতার, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ এ অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশের সঙ্গে ইরানের সুসম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে ইরানকে শত্রু হিসেবে দাঁড় করিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, কাতার, ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে ব্যর্থ হয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদ নিজের ভুল নীতি অনুসরণ অব্যাহত রাখলে তার সমস্যা বাড়তেই থাকবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
হাসান রুহানিদাবি করেন, তার দেশ সব সময় মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি সংকট সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছে; সংঘাতের মাধ্যমে নয়। তিনি আরো বলেছেন, বিশ্বের সঙ্গে ‘গঠনমূলক ও সম্মানজনক সংলাপ’ হচ্ছে ইরানের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
হাসান রুহানি বলেন, ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে তেহরান সাহায্য করেছে এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে আঙ্কারা, বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে উঠেছে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল অঞ্চলে পরিণত করতে চায় বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
১৯৭৯ সালে ইরানে সংঘটিত ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই দেশটিকে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পরিসরে শক্ত প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে আসছে সৌদি আরব। সুন্নি মুসলিমপন্থী সৌদি আরবের আশঙ্কা, শিয়াপন্থী ইরান তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ইরাকযুদ্ধ ও আরব বসন্তের সুযোগ নিয়ে বাড়াতে পারে অঞ্চলগত প্রভাব। বাগদাদ, দামেস্ক, সানা ও বৈরুতের ধারাবাহিকতায় তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বাদবাকি দেশগুলোকে নিজেদের কব্জায় নিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে সৌদি আরবের। এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করার লড়াইয়ে নেমেছে তারা। দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের নামে আর ইরানঘনিষ্ঠ ইয়েমেন-লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগ তুলে তেহরানবিরোধী ছায়াযুদ্ধ শুরু করেছে সৌদি আরব।








