মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় জেরুজালেমের ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির আশঙ্কায় আরব লীগ এবং ইসলামী সংস্থা ওআইসিকে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। তাদের মুখপত্র ওয়াফা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল মালিকী জেরুজালেম প্রশ্নে আশু পদক্ষেপ নির্ধারণে ওই বৈঠকের ডাক দিয়েছেন । এর কিছু আগে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে আরব লীগের এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমের স্বীকৃতি 'ন্যায়সঙ্গত নয়' বলে মন্তব্য করেছে ওই আঞ্চলিক জোট। ট্রাম্পের অবস্থান চরমপন্থা আর সহিংসতার জন্ম দেবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আফ্রিকা ও আরবের ২২ দেশের ওই সংগঠন।
ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুসলিম; তিন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থস্থান জেরুজালেম। শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে জানায়, চলতি মাসের ৬ তারিখেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপন করতে পারেন । এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলেই জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতি পাবে। এই পদক্ষেপ রুখতেই আরব লীগ আর ওআইসিকে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মুখপত্র ওয়াফার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থায়ী সদস্য দেশের প্রতিনিধি হিসেবে মালিকি আরব লীগ আর ওআইসির বৈঠক ডেকেছেন। ট্রাম্পের ঘোষণায় জেরুজালেম ঝুঁকির মুখে রয়েছে উল্লেখ করে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হারিরি এ ব্যাপারে আলোচনার ডাক দিয়েছেন।
জেরুজালেমকেতাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে চায় ফিলিস্তিনও। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও শহরটিকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে মেনে নেয়নি। ব্যাপারে ট্রাম্পের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বলছে, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করার দাবিকে পাশ কাটিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার প্রভাব হবে ধ্বংসাত্মক। ক্ষমতাসীন দল পিএলও'র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জেরুজালেমের ওপর যে কোনও ধরনের আঘাত আসলে তা হবে ‘আগুন নিয়ে খেলা’র শামিল। এই ‘নৃশংস সিদ্ধান্ত’র বাস্তবায়নকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ আখ্যা দিয়ে ফিলিস্তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে হামাস। ট্রাম্পের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তৃতীয় সশস্ত্র প্রতিরোধ (ইন্তিফাদা) শুরুর হুমকি দিয়েছে তারা।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন,ট্রাম্প সত্যিই মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিলে কী কার্যকর পদেক্ষপ নেওয়া হবে, আরব লীগ আর ওআইসির বৈঠকে সে ব্যাপারে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছন তিনি। এরআগে আরব লীগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মহাসচিবের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, মার্কিন প্রশাসন জেরুজালেমের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।








