সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে কয়েক বছরের লড়াইয়ের পর এবার ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা এবং ইসরায়েলের ধ্বংসের প্রতি মনোযোগী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) লেবাননের বৈরুতে এক সমাবেশে সংগঠনটির নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এ ঘোষণা দেন। নাসরাল্লাহর ওই ভাষণকে জ্বালাময়ী আখ্যা দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানায়, সেটি কোনও একটি গোপন স্থান থেকে সম্প্রচারিত হয়েছে এবং তা সমাবেশে বড় পর্দায় প্রদর্শিত হয়েছে।
৬ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। লেবাননে সাড়ে চার লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থীর বসবাস; যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। এদের অনেকে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পর লেবাননে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিদের বংশধর। ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরেই মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করছে লেবাননের জনগণ।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার বৈরুতে একটি সমাবেশের আয়োজন করে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। এতে যোগ দেন লাখো লেবানিজ ও ফিলিস্তিনি। মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে ‘হে আমেরিকা, তুমি মহা শয়তান’ স্লোগান দিতে দিতে মিছিল করেন তারা। ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’, ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’-মিছিলে এসব স্লোগানও দেওয়া হয়। হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি বলে বিবেচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বৈরুতের রাস্তায় হওয়ায় এ মিছিলে নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও অংশ নেয়। হিজবুল্লাহর নিজস্ব হলুদ ব্যানারের পাশাপাশি মিছিলকারীদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা।
সমাবেশে দেওয়া ভাষণে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির সমালোচনা করেন হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ।ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘বোকামিপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনিসতর্ক করেন। এ সিদ্ধান্তটি ‘ইহুদি রাষ্ট্রের ধ্বংসের সূচনা করবে’ বলেও হুঁশিয়ার করেন নাসরাল্লাহ।
‘সমন্বিত কৌশল’ এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তটি মোকাবিলা করার জন্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং অঞ্চলের অন্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাসরাল্লাহ। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি ও আরব নেতাদের উচিত ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দেওয়া এবং ইহুদি রাষ্ট্রটিকে বর্জন করা।
২০০০ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের সরে যেতে বাধ্য করেছিল।আর ছয় বছর পর ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল ইরান সমর্থিত এ সশস্ত্র গোষ্ঠী।








