মার্কিন গবেষকদের বিশ্লেষণ

ওআইসির ঘোষণা ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে

বিদেশ ডেস্ক
১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:৩৭আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:০২
image

ইসলামী সম্মেলন সংস্থা ওআইসি কর্তৃক পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনা স্বাধীনতাকামী ওই জাতির জন্য 'নতুন মোড়' আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকরা। বুধবার ইস্তাম্বুল সম্মেলনে ৫৭ মুসলিম দেশের ওই জোট পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বাদবাকি দেশকেও একই রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল পলিসি ইন্সটিটিউটে আয়োজিত সম্মেলনে বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইস্তাম্বুল ঘোষণা নামে পরিচিতি পাওয়া ওআইসির ওই 'কৌশলগত আক্রমণ' ট্রাম্পবিরোধী আন্তর্জাতিক প্রচারণাকে জোরালো করবে। ওআইসির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় আশু কোনও সমাধান না আসলেও আগামি বছর কিংবা দশকগুলোতে  ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।  


নিহাদ আওয়াদ
১৩ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)।ইস্তানবুলে আয়োজিত জরুরি সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ৫৭ মুসলিম দেশের এই জোট। বিশ্বের অন্যসব দেশকেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় তারা। জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে ওআইসির পক্ষ থেকে যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তাকে ইস্তানবুল ঘোষণা নামে ডাকা হচ্ছে।

ইস্তানবুল ঘোষণার পর বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল পলিসি ইন্সটিটিউটে বক্তব্য দেন মুসলিমদের অধিকারের পক্ষের সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) এর প্রধান নিহাদ আওয়াদ। তিনি বলেন, ‘ইস্তানবুলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং ওআইসির পক্ষ থেকে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনির রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে যে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তার মধ্য দিয়ে এখন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণা জোরালো হয়েছে।’  আওয়াদের মতে, ওআইসি’র সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত, কারণ এটি ৫৭টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ঘোষণাকে সমর্থন দেবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যদেরকে গঠনমূলক ও স্বচ্ছ একটি শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করার জন্য উৎসাহ দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার ওআইসি সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, ‘মার্কিন সিদ্ধান্ত অকার্যকর,অবৈধ ও বেআইনি। এ উসকানিমূলক সিদ্ধান্ত থেকে তাদের অবশ্যই সরে আসতে হবে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল একটি দখলদার ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। আর মার্কিন সিদ্ধান্ত হচ্ছে তাদের সন্ত্রাসবাদের পুরস্কার।’ এরদোয়ানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নিহাদ আওলাদ বলেন, 'আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এরদোয়ানের আহ্বানে সাড়া দেবে এবং রাশিয়া ও চীনের মতো অন্য শক্তিধর দেশগুলোকে মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে উৎসাহ যোগাবে।'

এরদোয়ানের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে আওয়াদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কখনওই ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৎ মধ্যস্থাকারী নয়। বরং এটি ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে সমর্থন দিয়েছে এবং দেশটির সরকারকে কোটি কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে।

ফিলিস্তিনের জন্য আন্দোলন
অতীতে ৪০০ বছরের অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে জেরুজালেম শান্তিপূর্ণ ছিল বলে উল্লেখ করেন সংবাদ বিশ্লেষক মার্টিন সিয়েফ। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল পলিসি ইন্সটিটিউটে একই প্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইস্তানবুলের বৈঠকের বড় ধরনের গুরুত্ব রয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে অঞ্চলটির পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসবে। তিনি মনে করেন, ‘ঘোষণাটি বছরের পর বছর এমনকী দশকব্যাপী প্রতিধ্বনিত হবে।' মার্টিনের মতে ইস্তাম্বুল ঘোষণা এই বৈঠকের বড় অর্জন। এর 'রাজনৈতিক কূটনৈতিক  কিংবা কৌশলগত প্রয়োগ ইতিবাচক ফলাফল হাজির করতে সক্ষম হবে যা সেখানকার অঞ্চলগত পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ 

উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। ট্রাম্পের ঘোষণার পর পরই বিক্ষোভে নামেন ফিলিস্তিনিরা। বিশ্বজুড়ে ঝড় ওঠে নিন্দা আর প্রতিবাদের।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

 

/এফইউ/বিএ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম