উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘ব্যাপক শক্তি’ প্রয়োগের অভিযোগ সম্বলিত মার্কিন নিরাপত্তা কৌশলের নীতিকে ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটি। নতুন নিরাপত্তা কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্প ‘পুরো বিশ্বকে তার আজ্ঞাবহ’ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ’র বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য ভোটাভুটির আগে দেশটি এমন মন্তব্য করল। এর আগে সোমবার ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনকে পিয়ংইয়ংয়ের অস্ত্র কর্মসূচির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
উত্তর কোরিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে কেসিএনএ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ‘আগ্রাসনের ঘোষণা’ ছাড়া কিছুই না। সে সময় তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘আমাদের দেশকে দমিয়ে রেখে পুরো কোরিয় উপদ্বীপকে উপনিবেশ বানিয়ে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়’।
সোমবার ট্রাম্প তার নতুন কৌশল ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিন্দা সত্বেও উত্তর কোরিয়ার বার বার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সমালোচনা করেন। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অমান্য করে এ বছর উত্তর কোরিয়া পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন বলে আসছে, তারা কূটনীতিক সমাধান চায় আর এজন্য দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব করে। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে দেশটির ৯০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া আর ১২ মাসের মধ্যে বিদেশে কর্মরত উত্তর কোরিয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া। গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প দেশটির নেতা কিম জং উনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও প্রস্তাব দিয়েছিল।
কয়েকদিন পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোরতর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবে ভোটাভুটি হবে। তবে তা চীন ও রাশিয়ার সমর্থনের উপর নির্ভর করবে। উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্ত দলের প্রধান মাইকেল কিরবি রয়টার্সকে বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা দেশটির সাধারণ মানুষের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।’
উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র ২০০৮ সাল থেকে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় দেশটির পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ স্থগিত রাখা এবং দেশটিতে পণ্য ও সেবা রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়েছে।








