তালালের কাছ থেকে ৬০০ কোটি ডলার মুক্তিপণ চাইছে সৌদি কর্তৃপক্ষ!

বিদেশ ডেস্ক
২৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:২৩আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১:০৭
image

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক রাজপুত্র ওয়ালিদ বিন তালালের কাছ থেকে ছয়শ' কোটি ডলার মুক্তিপণ চাইছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আটককৃতদের কাছ থেকে যে পরিমাণ মুক্তিপণ চাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে তাতে এটি সর্বোচ্চ পরিমাণ। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মুক্তিপণ দিতে রাজি নন তালাল, একে দোষ স্বীকার করে নেওয়ার শামিল বলে মনে করেন তিনি। আর তাই বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় এখনও মুক্তি পাননি এই সৌদি ধনকুবের; এই ব্যাপারে এখনও দেনদরবার চলছে।

আলওয়ালিদ বিন তালাল
সৌদি আরবে সম্প্রতি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। রাজপরিবারের সদস্যদের ওপর প্রথম দফায় আটক অভিযান চালানো হয় ৪ নভেম্বর রাতে। ওই রাতে ১১ জনকে আটকের পরের দিনগুলোতে ধরপাকড়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং তার উচ্চাভিলাষী পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)-এর নির্দেশে তাদের আটক করা হয়। কয়েকদিনের মাথায় আটক হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। এদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং রাজপরিবারের নারী সদস্যও রয়েছেন। 

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে প্রথম দিনেই আটক হন বিশ্বের ৫৭ তম ধনী তালাল। আকটকৃতদের বেশ কয়েকজন এরইমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তিপণ আদায়ের পর তাদের ছাড়া হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরও প্রকাশ হয়েছে। তবে এখনও মুক্তি পাননি তালাল। ওই সৌদি রাজপুত্রের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এবার তালালের মুক্তির বিনিময়ে ছয় বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি ডলার দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এই ব্যাপারে জানাশোনা রয়েছে এমন এক ব্যক্তিকে উদ্ধৃত ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানায়, রাজপুত্র চান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জন্য যদি আদালতে যেত হয়, তবে তিনি তাই করবেন। তিনি এই ব্যাপারে ‘যথাযথ একটি তদন্ত’ চান। তালাল মনে করেন, মুক্তিপণ দিতে রাজি হওয়ার মানে হলো অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়া।

বর্তমানে সৌদি আরবের বিলাসবহুল হোটেল রিজ কার্লটন-এ গত প্রায় দুই মাস ধরে বন্দি রয়েছেন ওয়ালিদ বিন তালাল। সৌদি আরবের শীর্ষ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কিংডম হোল্ডিংস-এর মালিক তিনি। কিংডম হোল্ডিংস বিচিত্র খাতে বিনিয়োগে জড়িত সৌদি আরব ভিত্তিক কোম্পানি। বিভিন্ন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও বিনিয়োগ করার পাশাপাশি এর লক্ষ্য হলো হোটেল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা, নির্মাণ সরঞ্জাম খাদ্য, কৃষিজাত পণ্য এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের খুচরা ও পাইকারি বাণিজ্য, পরিবহন সরঞ্জামাদির বাণিজ্য, বিজ্ঞাপন, বাণিজ্যিক সেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা দেওয়া। 

/এফইউ/
সম্পর্কিত
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম