যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে শিশুদের ব্যবহার বাড়ছে: ইউনিসেফ

বিদেশ ডেস্ক
২৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:০৫আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:১১
image

যুদ্ধ ও সংঘাত কবলিত অঞ্চলগুলোতে শিশুদেরকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। পাশাপাশি সংঘাত কবলিত অঞ্চলের শিশুদের জন্য ২০১৭ সালটিকে নির্মম বছর হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। নতুন করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুদ্ধাঞ্চলের শিশুদের নিয়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ইউনিসেফ। অবিলম্বে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য বিশ্বের যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি।

পাঁচ বছর বয়সী এক সিরীয় শরণার্থী
প্রতিবেদনে ইউনিসেফ জানায়, যুদ্ধরত পক্ষগুলো ভীষণভাবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অমর্যাদা করছে এবং শিশুরা নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছে। তাদেরকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং তাদের মানব প্রাচীর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং মিয়ানমারে ধর্ষণ, জোরপূর্বক বিয়ে, অপহরণ এবং দাসত্বকে সংঘাতের বিশেষ কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুরা একবার জঙ্গিদের হাতে অপহৃত হচ্ছে আবার মুক্তি পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। অনেকে আবার লড়াইয়ের কারণে পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে তারা অপুষ্টিতে ভুগছে ও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকার প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ শিশু স্কুলে যেতে পারছে না।

এক ইরাকি শিশু
ইউনিসেফের জরুরি কর্মসূচিবিষয়ক পরিচালক ম্যানুয়েল ফনটেইন বলেন, ‘শিশুদেরকে তাদের বাড়ি, স্কুল ও খেলার মাঠে হামলার লক্ষে পরিণত করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে যদি এই ধরনের হামলা চলতে থাকে তবে আমরা নিশ্চল হয়ে থাকতে পারি না।’ 

ইয়েমেনের সানা থেকে ইউনিসেফের মেরিটেক্সেল রেলানো বলেন, ‘ইয়েমেনের শিশুদের জন্য ২০১৭ সালটি ভয়াবহ একটি বছর।’

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আফ্রিকান অঞ্চলের শিশুরা। ২০১৭ সালে নাইজেরিয়া, শাদ, নাইজার এবং ক্যামেরুনে অন্তত ১৩৫ জন শিশুকে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালাতে বাধ্য করা হয়েছে। এ সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ৫ গুণ বেশি। ২০১৩ সালে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে শিশুদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ২০১৭ সালের প্রথম দশ মাসে সোমালিয়ায় প্রায় ১৮০০ শিশুকে যুদ্ধ করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে দক্ষিণ সুদানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ১৯ হাজারেরও বেশি শিশুকে নিয়োগ দিয়েছে।

আলেপ্পোতে এক সিরীয় শিশু
মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়ও সংঘাতের কারণে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইয়েমেনে তিন বছরের সংঘাতে হতাহত হয়েছে অন্তত ৫ হাজার শিশু। ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। ইরাক ও সিরিয়ায় শিশুদেরকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা অবরুদ্ধ হয়ে জীবন কাটাচ্ছে এবং হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। বছরের প্রথম নয় মাসে আফগানিস্তানে সংঘাতের কারণে প্রায় ৭০০ শিশু নিহত হয়েছে।

 

/এফইউ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম