পাকিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তাদের মাটিতে এক তরফা সামরিক পদক্ষেপের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। দুই মিত্র দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন সতর্কতা জানাল পাকিস্তান। এছাড়া জঙ্গি দমনে যথেষ্ট ভূমিকা না রাখার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাউয়ালপিন্ডির গ্যারিসন সিটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর এ সতর্কতা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আমরা রক্ত ও সম্পদ উভয় দিয়েই অনেক মূল্য শোধ করেছি। আমরা যথেষ্ট করেছি আর আমরা কারও জন্য কিছু করতে পারব না।’
গাফুর বলেন, অন্যকোনও দেশের নির্দেশে নয়, পাকিস্তান নিজের স্বার্থেই এ অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। সে সময় আল কায়েদার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াইয়ের পাকিস্তানের পাশে থাকার কথা তুলে ধরেন।
২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান, আল কায়েদা ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে লড়াই করছে। এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটিতে ইসলামের কঠোর সংস্করণ চালু করতে চায়। দেশটির সামরিক বাহিনী ওই গোষ্ঠীগুলোর শক্তিশালী অবস্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ২০১৪ সালে সর্বশেষ অভিযানের পর দেশটিতে সহিংসতা কমে আসলেও বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন হামলায় অনেক হতাহত হয়েছে। এ মাসের শুরুতেও কোয়েটার শহরের দক্ষিণাংশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই পাকিস্তানকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ‘আরও বেশি কিছু করা’র তাগাদা দেয়। তারা আফগান তালেবান ও হাক্কানী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করে আসছে। সংগঠন দুটি আফগানিস্তানে মার্কিন ও আফগান সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
বুধবারও ‘পাকিস্তান এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ স্বর্গ’ অভিযোগ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টেলারসন দেশটিকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা এক উপসম্পাদকীয়তে টেলারসন লেখেন, ‘আমরা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে পরাজিত করতে পাকিস্তানের সঙ্গে অংশীদার হয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। কিন্তু পাকিস্তানকে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে অংশীদার হওয়ার আগ্রহ দেখাতে হবে।’ দক্ষিণ এশিয়া কৌশল ঘোষণার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাকিস্তানকে নিয়ে সমালোচনার প্রতিধ্বনিই করলেন টেলারসন। ওই ঘটনার পর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ হলেও কোনও লাভ হয়নি।
বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে গাফুর পাকিস্তানে থাকা আফগান শরণার্থীদের মধ্যে থাকা হাক্কানী নেটওয়ার্কের মতো সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে কাজ করার অসুবিধা তুলে ধরেন। দেশটিতে ২৭ লাখের বেশি আফগার শরণার্থী রয়েছে যাদের অনেকেই প্রায় তিন দশক ধরে পাকিস্তানে বাস করছে।








