জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের একদিন পর শনিবার ইরানে সরকারের সমর্থনে দেশব্যাপী বার্ষিক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তেহরানের রাস্তায় একটি শোভাযাত্রার ছবি দেখানো হয়। আর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাসাদে সমর্থকরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনীর ছবিসহ ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছে।
বৃহস্পতিবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছিলেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। শুক্রবার তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ খেরমানসাহ শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মাসাদের একজন কর্মকর্তা জানান, শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র শহর মাসাদ থেকে বৃহস্পতিবার ৫২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্র এই গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছে। এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান সরকারের মতপ্রকাশসহ জনগণের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। বিশ্ব সবকিছু দেখছে।’
ইরানে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশটি সিরিয়া ও ইরাকের সঙ্গে ব্যয়বহুল সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, শনিবার দেশের ১২শ নগরী ও শহরে নির্ধারিত এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ওই বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনিয়াজ পুনঃনির্বাচিত হওয়ার প্রায় আট মাস ধরে সড়কে বিক্ষোভ চলে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ওই নির্বাচন পাতানো ছিল। সে সময় ইরানের বাসিজ মিলিশিয়া ও রেভ্যুলেশনারী গার্ড আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিল।
ইরানে প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রতিবাদ খুবই কম দেখা যায়। দেশটির সব জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ছড়িয়ে রয়েছে। তবে দেশটিতে মাঝে মাঝে শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করে থাকে। আর দেওলিয়া হয়ে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে জমানো টাকার দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবারের আন্দোলনের পর দেশটির নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ঘনিষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গীরিও আন্দোলনকারীদের সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘যারা এই ঘটনার পেছনে আছে তারা আগুনে হাত দিয়েছে।’
বিনিয়োগ ঘাটতির কারণে ইরানের অর্থনীতি চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে দেশটিতে বেকারত্বের হার ১২ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে এ হার আরও অনেক বেশি। সরকারি এক হিসাব অনুযায়ী, ইরানের আট কোটি মানুষের মধ্যে ৩২ লাখ মানুষই বেকারত্বে ভুগছেন।








