ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গুলিতে দুই জন নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইস্যুতে ইরানে সরকার ও প্রতিবাদকারীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। প্রতিবাদকারীদের বিক্ষোভের পর সরকার সমর্থকরা পাল্টা শোভাযাত্রা করে শক্তি প্রদর্শন করেছে। কর্তৃপক্ষের কড়া হুঁশিয়ারির পরও শনিবার ইরানজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের দোরুদ শহরে দুই যুবককে মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তাদের শরীরে রক্ত লেগে আছে। ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়, সেখানে দাঙ্গা পুলিশের গুলিতে ওই দুজন নিহত হয়েছে। ভিডিওটিতে আরেকজন বিলাপ করে বলেন, আমার ভাইকে যে হত্যা করেছে আমিও তাকে হত্যা করব। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তার আগের একটি ভিডিওতে একই শহরে বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনিকে ইঙ্গিত করে স্বৈরশাসকের পতন হোক বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
হাজার হাজার মানুষ গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন শহরের বিক্ষোভে অংশ নেয়। এই বিক্ষোভ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাতে শুরু হলেও পরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশে এ ধরণের কোনও বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার জন্য জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, এই বিক্ষোভ অবৈধ।
তবে সরকারের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে সামাজিক মাধ্যমে অনেক ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এসব ভিডিওতে দেখা গেছে, বিভিন্ন শহরে লোকজন এতে যোগ দিচ্ছেন। তেহরানের একেবারে কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও বিক্ষোভ হতে দেখা যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং সেখানে ইসলামি বিপ্লবের নেতাদের ক্ষমতা ছাড়ার দাবি জানিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমের খবরে দাবি করা হচ্ছে, সরকারের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করছে। সরকারের সমর্থকরা আজ মাঠে নেমেছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলে দাবি করা হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ সরকারের পক্ষে মিছিলে যোগ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, সরকার এই বিক্ষোভের মোকাবিলা করছে তার ওপর সারা দুনিয়া নজর রাখছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে 'অপ্রাসঙ্গিক' ও 'সুযোগ সন্ধানী' বলে নাকচ করে দিয়েছেন।








