পাকিস্তানের পাওয়া সামগ্রিক মানবিক সহায়তার সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সহায়তা ‘খুবই অপর্যাপ্ত’; মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসি। পাকিস্তানকে প্রদত্ত সহায়তার পরিমাণ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। ওই সহায়তা বন্ধে পাকিস্তানে কোনও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখছেন না আব্বাসি।
চলতি বছর নববর্ষে শুভেচ্ছায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও সন্ত্রাসে মদদের অভিযোগ তুলে সামরিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন। গতকাল (৫ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে সেই সাহায্য বন্ধের ঘোষণা আসে। শনিবার এক মার্কিন কমকর্তাকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত সহায়তা স্থগিতের আভাস দিয়েছে হোয়াইট হাউস। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, সামগ্রিকভাবে তারা যে সহায়তা পান, তার সাপেক্ষে ওই অর্থ খুবই সামান্য।
নববর্ষের ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বোকার মতো গত ১৫ বছরে পাকিস্তানকে ৩৩০০ কোটি ডলার সাহায্য দিয়েছে। তবে ইসলামাবাদে নিজের কার্যালয়ে দেওয়া সাক্ষাতকারে ট্রাম্পের দাবির ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, ‘আমি জানি না যুক্তরাষ্ট্রের কোন সাহায্য নিয়ে কথা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে তারা কমপক্ষে বার্ষিক ১ কোটি ডলার সাহায্য দিয়েছে। এটা খুব, খুবই গুরত্বহীন পরিমাণ। পত্রিকায় দেখলাম ২৫ কোটি, ৫০ কোটি অথবা ৯০ কোটি ডলার পর্যন্ত সাহায্য বন্ধ করা হচ্ছে। আমরা অন্তত এই পরিমাণ সাহায্যের বিষয়ে জানি না।’
পাকিস্তানের উর্দ্ধতন এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছেন মোটামুটিভাবে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে তারা আফগানিস্তানে লড়াইয়ে ব্যবহার করছেন। আফগানিস্তানকে নিরাপত্তা সহায়তা দিতে যৌথভাবে কাজের সময় এসব সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে।
পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারির জেরে গত বছরের জুনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ পদত্যাগের পর দায়িত্ব নেন আব্বাসি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আনা ট্রাম্পের দ্বৈতনীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। আব্বাসির দাবি, ‘পাকিস্তান সার্বভৌম রাষ্ট্র আর সবসময় তারা আর্ন্তজাতিক আইন মেনে চলে।’








