আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুর এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বর্বরোচিত ওই ঘটনার প্রতিবাদে সরব রয়েছে পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার অপরাধীদের বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। এ ধরনের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন তারা। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা লাঠি ও খণ্ড খণ্ড পাথর নিয়ে ডেপুটি কমিশনার কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করেন। এ সময় সংঘর্ষে অন্তত দুই ব্যক্তি নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুর শহরে ২০১৭ সালে ডজনখানেক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। জায়নাব নামের ৮ বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল এক বছরের মধ্যে সংঘটিত এমন ১২ তম ঘটনা।
২০১৫ সালেও শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় পাকিস্তানের জাতীয় পর্যায়ের সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও শিরোনাম হয়েছিল এই কাসুর অঞ্চল।
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে অঞ্চলটিতে তাণ্ডব চালাচ্ছে যৌন সন্ত্রাসীদের একটি চক্র। এ পর্যন্ত তাদের হাতে অপহরণ ও যৌন সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে অন্তত ২৮০টি শিশু। ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার এসব পরিবারের সদস্যরা। এমনকি শিশুদের যৌন নিপীড়নের ছবি এবং ভিডিও ক্লিপও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।
৮ বছরের জায়নাবকে সর্বশেষ দেখা যায় গত ৪ জানুয়ারি। সেদিন বাড়ির পাশের টিউশন সেন্টারে পড়তে যায় সে। এরপরই অপহৃত হয় শিশুটি। এ সময় তার মা-বাবা পবিত্র ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন।
এরইমধ্যে অপরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে শিশুটির একটি ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এটি আরও শঙ্কিত করে তোলে তার পরিবারের সদস্যদের। ওই ভিডিওটি অনলাইনে ভাইরাল হয়।
মঙ্গলবার এক পুলিশ সদস্য শাহবাজ খান রোডে আবর্জনার স্তূপ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ বলছে, চার থেকে পাঁচদিন আগে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।
৪ জানুয়ারি শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ৫ জানুয়ারি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন কাসুরের মানুষ।







