ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকে বরাবরই দেখা গেছে তার সফরসঙ্গী হতে। বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প এখন সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অবস্থান করছেন। সেখানে যাবার কথা ছিল মেলানিয়ারও। তবে সফরসঙ্গী হিসেবে ফার্স্ট লেডি ট্রাম্পের সঙ্গে নেই। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ‘বিপুল ব্যস্ততাকে’ সফরে না যাওয়ার কারণ দেখিয়ে মেলানিয়া গেছেন অবকাশযাপনে। এরআগে তিনি গিয়েছিলেন হলোকাস্ট মিউজিয়ামে। আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট বলছে, মেলানিয়া ফাস্ট লেডির পরিচয়টি বহন করতে তেমন একটা আগ্রহী নন, থাকতে চান নিজের মতো। এমন অবস্থায় রক্ষণশীল ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর ফাস্ট লেডির মধ্যকার সম্পর্কের বাস্তবতা নিয়ে। কেবল ডেইলি মেইল নয়, ট্রাম্প আর মেলানিয়ার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে কিনা, তা নিয়ে উৎসুক অনেক মার্কিন সংবাদমাধ্যমই।
প্রথম সংবাদমাধ্যম হিসেবে সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্পের দাভোস সফরের সময় ওয়েস্ট পাম সৈকতে নিজেদের রিসোর্টে ছুটির আমেজে রয়েছেন মেলানিয়া। হঠাৎ করেই নিজেদের মার-এ-লাগো রিসোর্টে অবকাশযাপনে গেছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাভোসের সফরসূচিতে তার নাম অন্তর্ভূক্ত থাকলেও তা বাতিল করেই তার এই অনির্ধারিত অবকাশ যাপিত হচ্ছে। অথচ তার মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিশামের দাবি, ‘অনেক ব্যস্ততার’ কারণে দাভোসে যেতে পারেননি মেলানিয়া ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাবেক পর্নোতারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সম্পর্কের গুঞ্জনের পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে দেখা যায় তাকে। যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট জাদুঘরে গিয়েছিলেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মেলানিয়ার ঐতিহাসিক এই জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য কোনও সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি ফ্লোরিডায় তার সফর নিয়ে আগাম কিছু জানানোও হয়নি।
ডেইলি মেইল বলছে, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরে মেলানিয়াকে প্রায়ই বাইরে দেখা গেলেও চলতি বছরের প্রথম থেকেই সেটা খুবই কমে আসে। এ বছরের শুরু থেকেই সংবাদমাধ্যমের আলোচনার শীর্ষে ছিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া। ১২ জানুয়ারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছিল, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন ড্যানিয়েলকে সম্পর্কের ব্যাপারে ‘চুপ থাকার’ জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিল। কোহেন ট্রাম্পের সঙ্গে ড্যানিয়েলের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করলেও টাকা দেওয়ার কথা অস্বীকার করতে পারেননি।
ড্যানিয়েলের প্রকৃত নাম স্টেফানি ক্লিফোর্ড। তিনি ২০১১ সালে এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা বলেছিলেন। তবে টাচ উইকলিকে দেওয়া সাক্ষাতকারটি চলতি বছর ১৭ জানুয়ারি আগে প্রকাশিত হয়নি। সাক্ষাতকারে তিনি দাবি করেছিলেন, ২০০৬ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০০৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল সে সম্পর্ক।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, এই সম্পর্কের কথা সংবাদমাধ্যমে আসার পর থেকে আর মেলানিয়া ট্রাম্পকে সবার সামনে আসতে দেখা যায়নি। এমনকি সোমবার তাদের ১৩তম বিবাহবার্ষিকী নিয়েও কোনও কথা বলেননি ট্রাম্প। একসঙ্গে দেখাও যায়নি যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে প্রভাবশালী এই দম্পতিকে। ডেইলি মেইল বলছে, সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শাটডাউন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন ট্রাম্প। ১৫ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে ফেরার পর মেলানিয়ার কোনও ছবিও তোলা হয়নি। সেদিন মেলানিয়ার মুখপাত্র গ্রিসাম সিএনএনকে বলেছিলেন, মেলানিয়া তার স্বামীর সঙ্গে দাভোসে যাচ্ছেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক অনেক কাজে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। এরপর ২২ জানুয়ারি নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেন গ্রিসাম। জানান, মেলানিয়া ট্রাম্পের দাভোস সফর বাতিল করা হয়েছে। এরপর সামাজিক মাধ্যমেও খুব একটা দেখা যায়নি ফার্স্টলেডিকে।
মাঝে অবশ্য ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের দায়িত্বগ্রহণের এক বছর পূর্তির দিন টুইটারে ছবিসম্বলিত একটি পোস্ট দেন ফার্স্টলেডি। তিনি বলেন, ‘এই এক বছরে অনেক মানুষ ও দারুণ কিছু মুহূর্ত পেয়েছি আমি। দেশ ও বিদেশের এমন অসাধারণ মুহূর্তের স্বাক্ষী হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।’ তবে সেই টুইটে ট্রাম্পের কোনও প্রসঙ্গের উল্লেখ ছিল না। মেলানিয়ার ছবিতেও ছিলেন না ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক পোস্টের সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফার্স্ট লেডি হিসেবে থাকার খুব আগ্রহ মেলানিয়ার নেই। তিনি সবসময়ই বলে আসছেন, তিনি যা খুশি, যখন খুশি করবেন। তার স্বামীর ব্যাপার তার নিজেকেই দেখতে হবে।








