'বিভক্ত আমেরিকার স্বপ্ন’ বাস্তবায়নে ‘ঐক্য’র ডাক মার্কিন প্রেসিডেন্টের

বিদেশ ডেস্ক
৩১ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:৩১আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৫১
image

'আমেরিকান শ্রেষ্ঠত্ব'কে উপজীব্য করে নিজের প্রথম স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান ঐক্যের ডাক দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসন-সীমান্ত আর জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের মধ্য দিয়ে বিভক্তিকে স্পষ্ট করে তিনি ডাক দিলেন রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাট সমন্বিত লড়াইয়ের। ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি আহ্বান জানালেন, মতভেদ ভুলে অভিবাসন ও অবকাঠামোগত কর্মকাণ্ডে একসঙ্গে কাজ করার। আমেরিকাকে শক্তিশালী নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী এক দেশ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, স্বপ্ন-সম্ভাবনায় বিশ্বের আর কোনও দেশ আমেরিকার মতোন নয়। ভাষণে নিজের চলমান শাসনকালকে ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের শ্রেষ্ঠ সময় বলে দাবি করেন ট্রাম্প। আর সেই 'আমেরিকান স্বপ্ন' বাস্তবায়নের পথে সন্ত্রাসবাদকে বাধা আখ্যা দিয়ে তিনি সীমান্তের বিভক্তিকে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। অভিবাসনে এনেছেন কঠোরতা। ঘোষণা দিয়েছেন গুয়ানতানামো বে চালু রাখবেন।


স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণ দিলেন ট্রাম্প

৮০-এর দশকে চালু হওয়া নব্য উদারবাদী অর্থব্যবস্থা যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বে ব্যর্থতার নজির স্থাপন করেছে, ঠিক তখনই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের সংরক্ষণশীল অর্থনীতির রূপরেখা নিয়ে মার্কিন রাজনীতির মঞ্চে হাজির হন আবাসন ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভয়াবহ বৈষম্য উৎপাদনকারী নব্য উদারবাদের জন্মভূমি যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তবাজারের অসারতা প্রমাণ করতে সমর্থ হন তিনি। তাই ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নামে কলম্বাসের কথিত আবিষ্কৃত আমেরিকার প্রলোভন দেখান মার্কিন ভোটারদের। এক বছর পেরিয়ে এসে স্টেট ইউনিয়ন ভাষণের সূচনায় সেই আমেরিকান শ্রেষ্ঠত্বকেই সামনে আনলেন তিনি।

ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প বলেছেন, 'সব সময়ের জন্যই যা বাস্তব, গত বছর বিশ্ব তা দেখেছে। বিশ্ব জেনেছে, পৃথিবীর আর কোনও দেশের মানুষ আমেরিকানদের মতো নির্ভীক-সাহসী আর নিজের প্রতি আস্থাশীল নয়। পাহাড় দেখলে সেটায় উঠে পড়তে আমরা দেরি করি না।  একটা সীমান্ত দেখলে সেটা পেরিয়ে যেতে ভয় পাই না। যেখানেই আশা, তাকেই আমরা কব্জা করে ফেলি। সুতরাং আমেরিকা শক্তিশালী, কেননা এর জনগণ শক্তিশালী।'

ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান ঐক্যের ব্যাপারে ট্রাম্প বলেন, ‘এক লক্ষ্যে কাজ করতে আজ আমি আমাদের সব বিভেদ সরিয়ে রাখার পক্ষে বলছি। ডাক দিচ্ছি ঐক্যের।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণের যা প্রাপ্য, অর্থনীতির জন্য যা প্রয়োজন, সেই নিরাপত্তা, দ্রুততা, নির্ভরযোগ্যতা এবং আধুনিক অবকাঠামো দেওয়ার বিষয়ে উভয় দলকে এক হওয়ার আহ্বান জানাই।’ গত এক বছরে ট্রাম্প প্রশাসন অবিশ্বাস্য অগ্রগতি ও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য নতুন সময়। আমেরিকান স্বপ্ন নিয়ে বাঁচার জন্য এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।’

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন সংস্কারে দ্বিদলীয় ঐক্যের প্রচেষ্টা নিয়েছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে নিজ নিজ দলীয় এজেন্ডায় ছাড় দিয়ে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনীয় সংস্কারকে ৪টি স্তম্ভে ভাগ করে একটি রূপরেখা হাজির করেছেন তিনি। ওই রূপরেখা অনুযায়ী, প্রথমত ড্রিমার এবং ড্রিমার হওয়ার মতো ১৮ লাখ অভিবাসীকে ক্রমান্বয়ে নাগরিকত্ব দেওয়া, সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোরতা, লটারিতে অভিবাসন সীমিত করা এবং পারিবারিক সূত্রে অভিবাসন বন্ধের প্রস্তাব করেছেন।

আমেরিকা নির্মাতার জাতি আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প  বলেন, ‘আমরা এক বছরে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং তৈরি করেছি। এটা কোনো পাগলামি নয়। নির্বাচনের পর থেকে প্রায় ২৪ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দুই লাখ কর্মসংস্থান শিল্প খাতে।’ যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘নতুন সড়ক, সেতু, মহাসড়ক, রেলপথ ও নৌপথ তৈরি করব আমরা।’

উন্মুক্ত সীমান্তের বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা আবারও তুলে ধরেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক সন্ত্রাসী ঘটনার জন্য অবারিত সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়া দুষ্কৃতকারীদের দায়ী করেন তিনি। ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ ভাষণের স্থলে উপস্থিত ছিলেন এমএস-১৩ (থারটিন) নামের কুখ্যাত গোষ্ঠীর হাতে নিহত দুই শিশুর মা-বাবারা। তাদের দিকে তাকিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো যুক্তরাষ্ট্র আমাদের শোকের সমব্যথী। উন্মুক্ত সীমান্ত বয়ে এনেছে অস্ত্র, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আর এতে প্রাণ গেছে নিরীহ মানুষের।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা তার দায়িত্বের অংশ বলে ঘোষণা করে ট্রাম্প বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।

কুখ্যাত গুয়ান্তানামো কারাগার আবারও চালু ও তা ভর্তি করবেন বলে ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প ভাষণে বলেন, ‘আগে শুধুমাত্র আবারও যুদ্ধক্ষেত্রে দেখার জন্য আমরা বোকার মতো আইএস নেতা বাগদাদীসহ শত শত ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীকে ছেড়ে দিয়েছি। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কুখ্যাত কারাগার গুয়ানতানামো বে চালু রাখার ঘোষণা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আজ আমি আরেকটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি। আমি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যাটিসকে দেওয়া এক নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছি।'

/বিএ/
সম্পর্কিত
ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি