পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাতে জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী ঘোষণার ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই সিদ্ধান্ত কখনও বাস্তবায়িত হবে না।
পোপ ফ্রান্সিসের সরকারি বাসভবন অ্যাপোস্টোলিক প্যালেসে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জেরুজালেম ইস্যু ছাড়াও সন্ত্রাসবাদ, শরণার্থী সমস্যা, সিরিয়া সংকট, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের মতো নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই নেতা। সিরিয়ার আফরিন ছিটমহলে কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তুরস্কের অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ নিয়েও পোপকে অবহিত করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। মুসলিম বিশ্ব ছাড়াও ইউরোপসহ দুনিয়াজুড়ে তার ওই ঘোষণা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পোপ ফ্রান্সিসও রয়েছেন এই সমালোচকদের তালিকায়। ওই অবস্থানের জন্য পোপকে ধন্যবাদ জানান এরদোয়ান। পোপও জেরুজালেম ইস্যুতে নেওয়া অবস্থান এবং শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এরদোয়ানের প্রশংসা করেন।
আলোচনায় বিদেশিদের সম্বন্ধে অহেতুক ভয় এবং ইসলাম বিদ্বেষ বা ইসলামভীতি দূর করত সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো নিয়েও কথা বলেন দুই নেতা। উভয়েই জোর দিয়ে বলেন, ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সমার্থক হিসেবে তুলে ধরা ভুল পদক্ষেপ। সব পক্ষকেই উসকানিমূলক মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকতে হবে।
এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক ক্যাথলিক খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছেন।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভ্যাটিকান সিটি সবসময়ই দুই রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করে। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে।
ভ্যাটিকান সফরে যাওয়ার আগে এরদোয়ান বলেন, জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে পুরো দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি রাজধানী হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত। আমরা এটা নিয়ে কাজ করবো।’








