সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় বিমান হামলায় সৃষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতি সামলাতে হামলা থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুয়েতেরেস। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ প্রস্তাবিত ৩০ দিনের অস্ত্রবিরতি তাৎক্ষণিক কার্যকর হওয়া উচিত।
সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এমন অবস্থা চলতে পারে না।’ এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘দুনিয়ায় দোজখ’ নেমে আসার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এবং এটি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
পূর্ব ঘৌটায় প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। ২০১৩ সাল থেকে এলাকাটি বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। রাজধানী দামেস্কের কাছে অবস্থিত এটিই সর্বশেষ এলাকা, যেটি বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চলতি মাসের শুরুর দিকে অভিযান জোরালো করে সরকারি বাহিনী। এতে শত শত মানুষ হতাহত হয়। সম্প্রতি ১ হাজার ২৪৪ সম্প্রদায়ের ৫৬ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার স্বার্থের কথা উল্লেখ করে নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাব আনে কুয়েত ও সুইডেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে রাশিয়ার স্বার্থগত বিরোধে সেই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি পিছিয়ে যায় কয়েকবার। অবশেষে, শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরীয় অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব অনুমোদন পায়। ত্রাণ ও চিকিৎসা সরবরাহে ৩০ দিনের অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে একমত হয় সংস্থাটির স্থায়ী-অস্থায়ী ১৫ সদস্য রাষ্ট্রই।
গুয়েতেরেস বলেন, ‘আমি সবপক্ষকে তাদের দায়িত্ব ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলে বেসামরিকদের রক্ষার আহ্বান জানাই।’ তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এই আইন ভঙ্গ করা উচিত নয়।
এদিকে রবিবার পূর্ব ঘৌটায় বিমান হামলায় রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন হোয়াইট হেলমেটস-এর স্বাস্থ্যকর্মীরা। দামেস্কের কাছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ঘৌটায় এক সপ্তাহ ধরেই বিমান হামলা চালাচ্ছে আসাদ বাহিনী। হোয়াইট হেলমেটস-এর দাবি, সেখানে ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাটইটস জানায়, তারাও একই ধরনের তথ্য পেয়েছে, তবে এটি গ্যাস হামলা কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংস্থাটি জানায়, এই বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি বেসামরিক প্রাণ হারিয়েছেন।








