ইয়েমেনে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কলেরার প্রাদুর্ভাব আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আসন্ন মাসগুলোতে বৃষ্টির কারণে রোগটি আরও বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা জানানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি জানিয়েছে।
গৃহযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষকবলিত ইয়েমেনে অব্যাহত রয়েছে মার্কিন সমর্থিত সৌদি জোটের হামলা। পাশাপাশি ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে প্রত্যক্ষ মার্কিন হামলাও রয়েছে। আর এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ২০১৬ সালে ইয়েমেনে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রাণ হারায় ২২০০ মানুষ। তবে সম্প্রতি রোগটির বিস্তার খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও আসন্ন মাসগুলোতে এর তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মোকাবিলা সংক্রান্ত উপ পরিচালক পিটার সালামা বলেন, ‘সত্যিকারের সমস্যা হলো আমরা বর্ষা ঋতুর আরেকটি অধ্যায়ে প্রবেশ করছি। সাধারণত বর্ষাকালে কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। সেকারণে আমাদের আশঙ্কা এপ্রিলের দিকে একবার এবং আগস্টে একবার কলেরার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সময় শিয়া হুথি বিদ্রোহী ও তাদের মিত্ররা দেশটির প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহকে হটিয়ে রাজধানী সানাসহ বেশ কিছু এলাকার দখল নেয়। এ সময় প্রেসিডেন্ট সালেহকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে হুথি বিদ্রোহীরা। এক বছর পর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট হুথি বিদ্রোহীদের উৎখাতে ইয়েমেনে আগ্রাসন শুরু করে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ঝুঁকিতে পড়ে লাখ লাখ মানুষ।








