পূর্ব ঘৌটা থেকে পালাতে শুরু করেছে বিদ্রোহী ও বেসামরিক নাগরিকরা

বিদেশ ডেস্ক
২৫ মার্চ ২০১৮, ১৩:৪৪আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৮, ১৩:৫০

সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটা থেকে শনিবার বের হওয়া শুরু করেছে বিদ্রোহীরা। সরকারি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের পর তারা অবরুদ্ধ শহরটি থেকে পালিয়ে যাওয়া শুরু করেছে। এখন পাশে থাকা দৌমা শহরের বিদ্রোহীরা একা হয়ে পড়েছে। সরকারি বাহনী তাদের আত্মসমর্পনের আহ্বান জানালেও তারা এখনো সেখানে অবস্থান করছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বাসে করে শহর ছাড়ছেন পূর্ব ঘৌটার বিদ্রোহী ও বেসামরিক নাগরিকরা

পূর্ব ঘৌটায় ২০১১ সালে প্রথম সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে এটাই ছিল বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি। গত এক মাসের লাগাতার হামলার পর সেখান থেকে পালানো শুরু করেছে বিদ্রোহীরা। শনিবার রাতে বাসে করে বিদ্রোহী যোদ্ধা ও তাদের পরিবারসহ বেসামরিক নাগরিকরা সেখান থেকে চলে যান। তাদের সেখান থেকে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে তাদের নির্বাসনে পাঠানো হচ্ছে।

একটি চুক্তির আওতায় শুক্রবার পূর্ব ঘৌটার হারাসতা শহর থেকে কয়েক হাজার মানুষকে চ শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন পূর্ব ঘৌটার নাগরিকরা লে যেতে দেওয়া হয়। বিদ্রোহীরা নিজেদের এলাকা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে হালকা অস্ত্র নিয়ে সেখান থেকে পালানোর সুযোগ পেয়েছেন। একটি তল্লাশি চৌকি অতিক্রম করে সারিবদ্ধভাবে বাসগুলো পূর্ব ঘৌটার প্রধান সড়ক দিয়ে যায়। তার আগে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত সড়কগুলো থেকে ব্যারিকেড, ধ্বংসাবশেষ ও অবিস্ফোরিত বোমা সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া পূর্ব ঘৌটায় বিদ্রোহীদের হাতে আটক থাকা বন্দিদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এক টেলিভিশন খবরে দেখানো হয়, মুক্তি পেয়ে বন্দিরা মিনিবাসে করে সেখান থেকে চলে যাচ্ছেন।

 

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, পালানোর প্রস্তুতির জন্য বিদ্রোহীরা পিছু হটায় সেনাবাহিনী শহরটিতে ঢোকা শুরু করেছে। টেলিভিশনটিতে বিদ্রোহীদের খনন করা পরিখা ও বিভিন্ন বাংকারের ছবি প্রকাশ করা হয়।  

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, পূর্ব ঘৌটায় সেনাবাহিনীর হামলায় গত এক মাসে ১৬শ মানুষ নিহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সরকার সেখানে এমন অস্ত্র ব্যবহার করেছে যাতে বেশি প্রাণহানি ঘটে। হেলিকপ্টার থেকে ব্যারেল বোমা ফেলা হয়েছে, ক্লোরিন গ্যাসসহ দাহ্য পদার্থ ফেলা হয়েছে যাতে সহজেই আগুন ধরে যায়।

বিদ্রোহী সূত্র ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানা গেছে, পূর্ব ঘৌটার জামালকা, আরবিন, এইন  তিরমা ও জোবার শহর থেকে বিদ্রোহী যোদ্ধা, তাদের পরিবার ও অন্যান্য বেসামরিক লোক মিলে প্রায় ৭ হাজার লোক চলে গেছে। তারা আসাদ সরকারের অধীনে থাকতে চায় না। তারা সবাই ইদলিবে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গিয়ে বাস করবে। গত দুই বছরে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকার বিদ্রোহীদের একইভাবে আত্মসমপর্ন অথবা পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে সরকারি বাহিনী।

এই পালিয়ে যাওয়া মানে তারা যুদ্ধ থেকে বেঁচে গেল তা নয়। রুশ সেনাদের সহায়তায় ইদলিবে গত সপ্তাহে হামলা জোরদার করেছে সরকার। সেখানে ইতোমধ্যে অনেক মানুষ হতাহত হয়েছে। এছাড়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মতবিরোধের কারণেও ইদলিব অস্থিতিশীল হয়ে আছে। শনিবার আল কায়েদার সাবেক সহযোগী সংগঠন নুসরা ফ্রন্টের সদর দফতরে এক বিস্ফোরণে কমপক্ষে সাত জন নিহত হয়েছে ও ২৫ জন আহত হয়েছে।

বাসে করে নিজ এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন নাগরিকরা

পূর্ব ঘৌটা পতনের পর বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে পাশের দৌমা এলাকা। সেখান থেকেও পালিয়ে যাওয়া শুরু করেছে বিদ্রোহীরা। সিরিয়ান অবজারভেটরি বলেছে, দৌমায় অবস্থানরত বিদ্রোহী গোষ্ঠী জাইশ আল ইসলামও সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে। শুক্রবার বিদ্রোহীরা বলেছে, আসাদের দখলকৃত এলাকায় থেকে যাওয়া বেসামরিক লোকদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে রাশিয়া। তবে কিছু লোককে সেখান থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে।

আল হাদাথ টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফাইলাক আল রাহমানের মুখপাত্র ওয়ায়েল আলওয়ান বলেন, তিনি রাশিয়ার নিশ্চয়তায় বিশ্বাস করেন না। ফাইলাক আল রাহমান পূর্ব ঘৌটার জামালকা, আরবিন, এইন তিরমা ও জোবার এলাকার নিয়ন্ত্রণ করে।

রাশিয়ার সামরিক ওয়েবক্যামের ছবিতে দেখা যায়, বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকা থেকে বেসামরিক নাগরিকরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। সেখানে তাদের কোলে শিশু ছাড়াও ছোট ছোট বস্তা লক্ষ্য করা গেছে। রুশ সেনাবাহিনী বলেছে, পূর্ব ঘৌটা থেকে ইতোমধ্যে এক লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ চলে গেছে। এর মধ্যে শনিবার ৭ শতাধিক মানুষ সেখান থেকে চলে যায়।

 

/আরএ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম