বরাবরের মতোই তালেবানকে সমর্থন দেওয়া ও অস্ত্র সরবরাহ করার মার্কিন অভিযোগ আবারও নাকচ করে দিয়েছে রাশিয়া। এ নিয়ে আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনীর প্রধানের বক্তব্যকে ‘বাজে কথা’ বলে উল্লেখ করেছে দেশটি। কাবুলের রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে।
রাশিয়া তালেবানকে অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে গত বছর থেকে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সবশেষ শুক্রবার (২৩ মার্চ) বিবিসিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীর প্রধান জন নিকোলসন আবারও একই অভিযোগ করেন। দাবি করেন, তিনি রুশদেরকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড চালাতে দেখেছেন। তাজিক সীমান্ত দিয়ে রাশিয়া তালেবানের কাছে অস্ত্র পাঠাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিকোলসন বলেন, “তালেবানের লেখা গল্প আমরা মিডিয়ায় প্রচার হতে দেখেছি। সেখান থেকে জেনেছি,শত্রুরা তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এ সদর দফরে আমরা কিছু অস্ত্র এনেছিলাম। আফগান নেতারা সেগুলো আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘তালেবানকে রুশরা এ অস্ত্র দিয়েছে’-আমরা জানি, রাশিয়া এর সঙ্গে জড়িত।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেনা কর্মকর্তার ওই অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে কাবুলস্থ রুশ দূতাবাস। অভিযোগ অস্বীকার করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আবারও আমরা জোর দিয়ে বলছি এ ধরনের বক্তব্য একেবারে ভিত্তিহীন। এ ধরনের বাজে কথা না বলার জন্য কর্মকর্তাদের (মার্কিন) প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
৯/১১ হামলার পর ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। আল কায়েদাকে সমর্থন ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ওই যুদ্ধে তালেবানরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হলে মার্কিন সমর্থনে সেখানে নতুন সরকার গঠিত হয়। কয়েক দফা সাধারণ নির্বাচনে সেই ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও ১৭ বছরেও শেষ হয়নি সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধ। পরে বেশ কয়েক দফা শান্তি আলোচনার উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এখনও আফগানিস্তানে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বাহিনী। গত বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে দাবি করা হয়,রাশিয়া আফগানিস্তানে তালেবানকে রাজনৈতিক বৈধতা ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। রুশ কর্মকর্তারা বরাবরই তালেবানকে সহায়তা দেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি,তালেবানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর লক্ষ্যেই সংগঠনটির সঙ্গে সীমিত পরিসরে যোগাযোগ করা হয়।








