উত্তরাঞ্চলীয় সিরিয়ায় কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে তুরস্কের চলমান সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখতে চায় ফ্রান্স। দুই পক্ষের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তিতে দূতিয়ালির দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রন। আইএসবিরোধী যুদ্ধে কুর্দিদের ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবর থেকে এ কথা জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে আফরিনসহ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল দুই কুর্দি সংগঠন পিওয়াইডি (ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি) ও ওয়াইপিজি (গেরিলা সংগঠন পিপলস ডিফেন্স ইউনিট)। আইএসবিরোধী যুদ্ধে সংগঠন দুটিকে সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স-এসডিএফ নামে ডাকে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাঁক্রন আইএসবিরোধী যুদ্ধে এসডিএফ-এর আত্মত্যাগ আর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ফ্রান্স সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইএসের ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছে। এরমধ্যে ২০১৫ সালে প্যারিসে আইএসের হামলায় প্রাণহানি হয় ১৩০ জনের।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ওয়াইপিজিকে হটানোর লক্ষ্যে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আফরিনে সেনা অভিযান শুরু করে তুরস্ক ও এফএসএ। গত ২০ জানুয়ারি ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ’ নামে শুরু হওয়া অভিযানে বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৮ মার্চ রবিবার কুর্দি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে শহরটির নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয় এফএসএ। রবিবার সকালেও উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসডিএফকে সহায়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষুব্ধ তুরস্ক। ন্যাটোভুক্ত এই দুই মিত্র দেশের মধ্যে এ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে কূটনৈতিক সম্পর্কে। ফ্রান্স এবার বিরোধী দুইপক্ষ তুরস্ক ও কুর্দিদের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিলো।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সের সঙ্গে দেখা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রন। সেখানে তিনি সক্রিয় কুর্দি গেরিলাদের সংগঠন ওয়াইপিজে’র প্রতিনিধিদের সঙ্গেও দেখা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওই গেরিলাদের সঙ্গে তুরস্কের সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা করা হলে তা ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।
প্রায় দুই মাসের ধারাবাহিক অভিযান শেষে গত ১৮ মার্চ সিরিয়ার আফরিনে কুর্দি গেরিলাদের (ওয়াইপিজি) বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় দাবি করে তুরস্ক। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদলু এজেন্সির খবরে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান ও সেনাসূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, তুর্কি বাহিনী ও সিরিয়ার বিদ্রোহী সংগঠন ফ্রি সিরিয়ান আর্মি (এফএসএ) যৌথভাবে আফরিনে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এদিকে কাতারভিত্তিক আল জাজিরাও কুর্দি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে আফরিনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছে।








