সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুবরাজ হয়তো ইতিহাস পড়ে দেখেনি বা যুদ্ধ কী তা বোঝেই না। ১০-১৫ বছরের মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ লাগতে পারে বলে সৌদি যুবরাজের মন্তব্যের পর তিনি এমন সমালোচনা করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি সৌদি যুবরাজকে ‘মৃত্যু নিয়ে বাজি ধরতে’ নিষেধ করেন। ইরানি জাতির সংকল্পকে চ্যালেঞ্জ করায় ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেনের পরিণতি মনে করিয়ে দিয়ে ‘ভ্রমের মধ্যে থাকা নবিশ’ যুবরাজকে বোঝানোর জন্য প্রবীণ সৌদি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বাহরাম কাসেমিকে উদ্ধৃত করে ইরানি সংবাদমাধ্যম বলছে, ‘এই ভ্রমাত্মক নবিশ যে কিনা এখনও তার পদের বয়সী হয়ে ওঠেনি। সে হয়তো জানেই না যুদ্ধ কী অথবা ইতিহাস পড়েনি অথবা দুর্ভাগ্যবশত প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেনি।’ কাসেমি ত্রয়োদশ শতাব্দীর একটি কবিতাকে উদ্ধৃত করেন যাকে বাংলা প্রবাদের সঙ্গে মিলিয়ে এভাবে পড়া যায়, ‘হাতি-ঘোড়া গেল তল, পিপড়া বলে কত জল!’ এরপর তিনি ইরানি ভাষাবিদদের কবিতাটি সৌদি রাজপরিবারের জন্য আরবিতে অনুবাদ করে দিতে বলেন। যাতে যুবরাজ তা ঠিকভাবে বুঝতে পারেন।
সৌদি যুবরাজ সম্প্রতি বলেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি না করা হয় তাহলে সৌদি আরব দেশটির সঙ্গে সামরিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘সামরিক সংঘাত এড়াতে আমাদের অবশ্যই এটা আদায় করতে হবে। যদি আমরা এতে ব্যর্থ হই তাহলে সম্ভবত আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে।’
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানকে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের আশঙ্কা, ইরান তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ইরাকযুদ্ধ ও আরব বসন্তের সুযোগ নিয়ে বাড়াতে পারে আঞ্চলিক প্রভাব। বাগদাদ, দামেস্ক, সানা ও বৈরুতের ধারাবাহিকতায় তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বাদবাকি দেশগুলোকে নিজেদের কব্জায় নিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে সৌদি আরবের। এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করার লড়াইয়ে নেমেছে তারা।








