শুক্রবারের প্রাণহানির পর গাজা সীমান্ত এলাকায় হামলার আশঙ্কা করছে ইসরায়েল। দেশটির আশঙ্কা প্রাণহানির ঘটনার পর হামাসসহ অন্য সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গ্রুপগুলোর কাছ থেকে রকেট হামলার ঘটনা বাড়তে পারে। সে কারণে সীমান্তের ইহুদি বসতি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে দেশটি। এছাড়া সীমান্ত বেড়ার কাছে বিস্ফোরক বসানোর আশঙ্কায় ওই এলাকায় নিরাপত্তা তল্লাশি বাড়িয়েছে তারা। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা বলছেন, ভুয়া বিস্ফোরক শনাক্ত করে ফিলিস্তিনিদের ওপর দায় চাপাতে পারে ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর এসব খবর জানিয়েছে।
গত শুক্রবার ৪২ তম ভূমি দিবস দিবস পালন করতে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি গাজা সীমান্তে জড়ো হলে তাদের ওপর গুলিবর্ষন করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। তাতে প্রাণহানি ঘটে ১৬ জনের। সাড়ে সাত শতাধিক গুলিবিদ্ধসহ আহত হন দেড় সহস্র ফিলিস্তিনি। সহিংসতার জন্য ইসরায়েলে গাজা এলাকা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচিত সংগঠন হামাসকে দায়ী করে ইসরায়েল। তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের সংগঠনটি।
রবিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সূত্রে কুদস প্রেসের খবরে বলা হয়, গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে সহিংসতার আশঙ্কায় ওই এলাকার ইহুদি বসতি এলাকায় আয়রন ডোম মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ঊর্ধ্বতন এক সামরিক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায় গাজার সম্ভাব্য প্রতিরোধ ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। সম্ভাব্য প্রতিরোধ হিসেবে রকেট হামলা চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। আসন্ন দিনগুলোতে বিক্ষোভ আরও জোরালো হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে তাদের।
পর্যবেক্ষকদের বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, গাজা সীমান্ত বেড়ার কাছে বিস্ফোরক বসানোর আশঙ্কায় সেখানে নিরাপত্তা তল্লাশি চালাতে যাচ্ছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ইসরায়েলের আশঙ্কা বিক্ষোভের মধ্যে সীমান্ত বেড়ার কাছে বিস্ফোরক বসিয়ে রেখে গেছে ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলের নিরাপত্তাবাহিনীর ওই তল্লাশি অভিযানের এক সমালোচক মিডল ইস্ট মনিটরকে জানিয়েছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ভূয়া বিস্ফোরক আবিষ্কার করে ফিলিস্তিনিদের ওপর দায় চাপাতে পারে ইসরায়েল। এর মাধ্যমে ইসরায়েল শুক্রবারের শান্তিপূর্ণ ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচিতে চালানো নির্মমতাকে বৈধতা দেওয়ার উপায় খুঁজতে পারে দেশটি।
ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ বলছে, ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে শুক্রবারের রক্তপাতের প্রতিশোধের আশঙ্কা করছে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবাহিনী। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ফিলিস্তিনের অন্য সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে ইসরায়েলের ওপর রকেট হামলা ও বিস্ফোরক বসানোর অনুমোদন দিতে পারে হামাস।
রবিবার সন্ধ্যায় হামাসের সামরিক শাখা আল কাসেম ব্রিগেডেরের তরফ থেকে সীমান্ত এলাকায় থাকা ইসরায়েলের সেনা সদস্যদের ছবি প্রচার করা হয়। এসব প্রচার বার্তায় বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সেনা সদস্যরা তাদের গুলির আওতায় রয়েছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।








