১৪৪ ধারা উঠে যাওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসানসোলে শান্তির পক্ষে মিছিল করেছে সেখানকার মানুষ। ইন্ডিয়া টাইমস খবর দিয়েছে, ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে আসছে সেখানকার পরিস্থিতি। ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তাদের নিজস্ব ক্ষমতাবলে এক মাসের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণ জানাতে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের স্বতপ্রণোদিত নির্দেশনা দিয়েছে।
২৫ মার্চ রাম নবমীর মিছিল থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বিষ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজনার মধ্যে নিখোঁজ হন আসানসোলের নুরানি মসজিদের ইমাম রশিদির ১৬ বছর বয়সী এসএসসি পরীক্ষার্থী সন্তান সিবতুল্লাহ রশিদি। একদিন পর তার মরদেহের সন্ধান মেলে। মঙ্গলবার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময় জারিকৃত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়। ওই আদেশ প্রত্যাহারের পর রামকৃষ্ণ মোড় থেকে হাটন রোড পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় শান্তির পক্ষের মিছিল। বাম রাজনৈতিক দলগুলোর আয়োজনে এই মিছিলে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ যোগ দেয়।
পুত্রের শেষকৃত্যের সময় আসানসোলবাসীর কাছে শান্তির আহ্বান জানান ইমাম রশিদি। তিনি বলেন,‘কোনও প্রতিহিংসা নয়। প্রতিশোধ নিতে যদি কারোর মৃত্যু ঘটাও, তাহলে আমি এই শহর ছেড়ে চলে যাবো। আমি তোমাদের সঙ্গে ৩০ বছর ধরে আছি,আমাকে যদি তোমরা ভালোবাসো তাহলে আর কাউকে যেন এভাবে মরতে না হয়।’
আসানসোল ও রানীগঞ্জের সহিংসতাকে আমলে নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এক মাসের মধ্যে এর কারণ জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ মহাপরিদর্শককে এই সহিংসতার বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন থেকে পাঠানো নোটিশে সহিংসতা কবলিত এলাকার পুলিশের সাহায্য চেয়ে না পাওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে এর কারণ জানানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।








