ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি ছোড়ার হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে গাজার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে শুক্রবারও (৬ এপ্রিল) বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের গুলি ছোড়া নীতি থেকে সরবে না। তা সত্ত্বেও ১৫ মে পর্যন্ত টানা ছয় সপ্তাহ ভূমি দিবসের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অনড় ফিলিস্তিনিরা।
৩০ মার্চ ছিল ভূমি দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের টানা ছয় সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রথম দিন। এদিন গাজার ইসরায়েল সীমান্তের ছয়টি স্থানে এই বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের এই বিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ১৫০০ মানুষ আহত হন।
বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান বলেন, ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কোনও ইচ্ছে নেই। ইসরায়েলের সরকারি রেডিওতে তিনি বলেন, ‘কোনও ধরনের উত্তেজনা দেখা গেলে গত সপ্তাহের মতো করেই কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’
ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আন্দোলনকে ‘সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দেয় ইসরায়েল। সহিংসতার জন্য গাজা এলাকা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচিত সংগঠন হামাসকে দায়ী করে দেশটি। তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ মার্চ ইসরায়েলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ‘ভূমি দিবস’ পালন করছে ফিলিস্তিনিরা। ওইদিন নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত হন। তাদের স্মরণেই পালিত হয় ভূমি দিবস। ২০০৭ সাল থেকে গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। সেখানকার ৭০ শতাংশ মানুষই ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত হয়ে সেখানে এসে বাস করছেন।
ভূমি দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। দ্য গ্রেট রিটার্ন মার্চ’ নামে এই বিক্ষোভটি প্রতি বছর আয়োজিত হলেও এবার এতে ভিন্নতা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েরেলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা এবারের ভূমি দিবসকে ভিন্নতা দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা








