সিরিয়ায় হোমসে বিমানঘাঁটিতে হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করছে দেশটির সেনাবাহিনী। একই কথা বলছে রাশিয়ায় সেনাবাহিনীও। তবে এই অভিযোগের বিপক্ষে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
রুশ সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননের আকাশসীমা থেকে দুইটি ইসরায়েলি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আটটির মধ্যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বলেও দাবি করেন তারা। এই ব্যাপারে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রকে জিজ্ঞাসা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
সিরীয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, সোমবার সকালে হোমসের পূর্বে টি-ফোর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। তারা দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পেন্টাগন।
লেবাননে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র অনেক নিচু হয়ে সিরিয়ার দিকে যাচ্ছে। এই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ইরানি নাগরিক কিংবা ইরান সমর্থিত দলের সদস্য।
দামেস্ক সংলগ্ন সর্বশেষ বিদ্রোহী ঘাঁটি পূর্ব ঘৌটা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে শুক্রবার (৬ এপ্রিল) রাত থেকে শনিবার (৭ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত হামলায় পূর্ব ঘৌটার অন্তত ৭০ জনের নিহত হওয়ার খবর জানা যায়। আসাদ বাহিনীর বিষাক্ত সারিন রাসায়নিক গ্যাস হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেট। সিরিয়া অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে। তবে রবিবার এ ব্যাপারে সিরীয় সরকারকে হুঁশিয়ার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এর জন্য বাশার আল আসাদ সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
এর কিছু সময়ের মধ্যে সোমবার (৯ এপ্রিল) সেখানকার এক বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর জানা যায়। সিরিয়ান টিভির খবরে বলা হয়, ‘সোমবার ভোরে হোমস শহরে টি ফোর বিমানঘাঁটির কাছে প্রচণ্ডরকমের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।’ সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, ‘তায়ফুর বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে বিমান প্রতিরক্ষা বিভাগ কাজ করছে।
তাইয়াস নামের ওই বিমানঘাঁটি হোমস ও প্রাচীন শহর পালমিরার মাঝামাঝিতে অবস্থিত। এই স্থানটি মূলত রুশ সেনাবাহিনী ব্যবহার করে। তবে হামলায় তাদের কোনও বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
সিরিয়ায় ইরানি সমর্থিত বাহিনীকে হামলার ক্ষেত্রে এর আগেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। ফেব্রুয়ারিতেও টি-ফোর ঘাঁটিতে বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে। তারা দাবি করেছিল তাদের আকাশসীমায় একটি ইরানি ড্রোন প্রবেশ করেছিল। গার্ডিয়ান জানায়, ইসরায়েল এমনভাবে অভিযান পরিচালনা করে যেন ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ বাহিনীর কাছে অস্ত্র না যায়।
গত সপ্তাহে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সিরিয়ায় মার্কিন সেনার উপস্থিতির মাধ্যমেই এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব কমানো সম্ভব।
রবিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যে, রাসায়নিক হামলার কারণে সিরিয়ার সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে। পেন্টাগন থেকে জানায়, ‘রাসায়নিক হামলায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আমরা কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দেওয়া চেষ্টা করবো। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো আমরা।’
হোয়াইট হাউস এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক ফোনালাপে একমত প্রকাশ করেন যে রাসায়নিক হামলার বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেবেন তারা।
ম্যাক্রোঁ বলেন, সিরিয়া রাসায়নিক হামলার বিষয়টি ‘লাল সীমা’ অতিক্রম করার মতো ঘটনা। আসাদ সরকার জড়িত থাকলে ফ্রান্স হামলা চালাবে। তবে সোমবারের হামলার দায় স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ফ্রান্স কেউই।
সোমবার রাসায়নিক হামলার ব্যাপারে বসার কথা রয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের। রবিবার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-ইভস লি দ্রিয়ান বলেছেন, সিরিয়ার বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় রাসায়নিক হামলার খবর খুবই উদ্বেগজনক। ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি এ ঘটনায় দ্রুত নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানান।








