সিরিয়ায় সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য রাসায়নিক হামলাকে কেন্দ্র করে পরস্পরের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়া ক্ষমতাধর দেশগুলোকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধামকি চলতে থাকলে সময় ফুরিয়ে যাবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে সতর্ক করা হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ‘ক্ষেপণাস্ত্র আসছে’ বলে রাশিয়াকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর এমন সাবধান বাণী দিলো জাতিসংঘ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ব্যবস্থার বিরোধিতাকারী দেশগুলো বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠক ডেকেছে। ব্রিটেনও মন্ত্রিপরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছে।
গত ৭ এপ্রিল সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমাতে রাসায়নিক হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ রাসায়নিক হামলার ঘটনায় সোমবার (৯ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভা এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সমালোচনা করে রাশিয়া ও ইরান পাল্টা হুমকি দেয়। বলা হয়, সিরিয়ায় হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। বিনা জবাবে তারা পার পাবে না। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ট্রাম্প সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালানোর ইঙ্গিত দেন। আসাদের মিত্র রাশিয়াকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আসছে, প্রস্তুত হও রাশিয়া।’
সিরিয়া ইস্যুতে ক্ষমতাধর দেশগুলো এভাবে পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধামকি চালিয়ে গেলে ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে’ বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সিরিয়া সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদ যখন কোনও কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে তখন বুধবার (১১ এপ্রিল) জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রতি ইঙ্গিত করে গুতেরেস বলেন, ‘পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় তা নিশ্চিত করতে এবং বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাতে আজ আমি নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের দূতদেরকে ডেকেছি।’
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। হামলার তদন্ত দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ যুক্তরাজ্য। এ ঘটনায় আসাদ সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানিয়েছে আঙ্কারা। পশ্চিমা দুনিয়াকে এ ব্যাপারে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তবে সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলা হয়েছে কিনা তা নিয়ে তদন্তের জন্য নিজেদের পরস্পরের উদ্যোগের বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।








