যুক্তরাজ্যের গুপ্তচরেরা সিরিয়ার দৌমা শহরে রাসায়নিক হামলার ঘটনা সাজিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাবরভ বলেছেন, রুশোফোবিক প্রচারণার অংশ হিসেবে ওই হামলার ঘটনা সাজানো হওয়ার বিষয়ে ‘অকাট্য প্রমাণ’ তাদের কাছে রয়েছে। একটি দেশ ওই হামলার ঘটনা সাজিয়েছে বলে জানালেও কোনও দেশের নাম বলেননি তিনি। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ওই হামলার জন্য যুক্তরাজ্যকে দায়ী করেছেন।তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রমাণ আছে এই উত্তেজনার আয়োজনের সঙ্গে সরাসরি ব্রিটেন জড়িত। তবে রাশিয়ার এই দাবিকে ‘ভয়ঙ্কর মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এসব খবর জানিয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমাতে রাসায়নিক হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় ৮৫ জনের নিহত হওয়ার খবর দেয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার জন্য সিরিয়ার আসাদ সরকারকে দায়ী করে আসলেও ফ্রান্সই প্রথমবার ওই হামলায় সিরীয় সরকারের জড়িত থাকার প্রমাণ থাকার দাবি করে।বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন,সিরিয়া সরকার দৌমায় রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে এমন প্রমাণ রয়েছে তাদের কাছে।‘সঠিক সময়ে’ বিমান হামলার মাধ্যমে এর জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান দৌমায় আক্রন্তদের নমুনায় বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন তারা। এর মধ্যেই সিরিয়া সরকারের মিত্র রাশিয়া ওই হামলার পেছনে যুক্তরাজ্যের জড়িত থাকার প্রমাণ থাকার দাবি তুললেন।
শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাবরভ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সিরিয়া সরকার এবং তার মিত্র মস্কোকে দোষারোপ করতে বিদেশি ক্রীড়নকেরা বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমায় রাসায়নিক হামলার ঘটনা সাজিয়েছে।
ল্যাবরভ বলেন, একটি রাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী রুশোফোবিক প্রচারণার অংশ হিসেবে এই ঘটনা সাজানোর অংশ হয়েছে।
ইয়াহু নিউজের খবরে বলা হয়েছে,রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই হামলার জন্য যুক্তরাজ্যের দিকেই আঙ্গুল তুলেছে মস্কো। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগোর কোনাশেনকভ তার বিবৃতিতে দৌমার একটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে দাবি করেন,ভিডিও ক্যামেরা বহনকারী একদল লোক হাসপাতালে ঢুকে পড়ে। তারা চিৎকার করে বলতে থাকে রোগীরা রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার শিকার হয়েছে। তারা সেখানে ভীতি ছড়িয়ে দেয়। ওই চিকিৎসকদের দাবি কোনও রোগী রাসায়নিকে আক্রান্ত হননি। বিবৃতিতে কোনাশেনকভ এই উত্তেজনার জন্য ব্রিটেন সরাসরি জড়িত দাবি করলেও কোনও বিস্তারিত প্রমাণ সরবরাহ করেননি।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়ার এই দাবিকে ভয়ঙ্কর মিথ্যা আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কারেন পিয়ার্স। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এটা উদ্ভট আর ভয়ঙ্কর মিথ্যা। রাশিয়ার প্রচারণা কৌশল থেকে আমাদের দেখা সবচেয়ে নিকৃষ্ট ভুয়া খবর।
এদিকে সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। পরে তার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়,রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারকে কোনওভাবেই নিরঙ্কুশভাবে চলতে দেওয়া যেতে পারে না বলে দুই নেতা একমত হয়েছেন। দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাড়া দেওয়ার অংশ হয়ে কাজ করে যাওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছেন বলে ওই বিবৃতিতে বলা হয়।
তবে ব্রিটিশ বিরোধী দলের নেতা জেরেমি করবিন সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেছেন তারা ট্রাম্পের অনুগত হয়ে পড়ছে। তিনি দাবি করেন জাতিসংঘের নেতৃত্বে ওই হামলার ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্তের জন্য চাপ দেওয়া উচিত।








