জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুয়েতেরেস বলেছেন, সিরিয়া ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্বে আবার স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি বলেন, প্রতিশোধ নিতেই যেন স্নায়ুযুদ্ধ ফিরে আসছে। তবে এবার একটু পার্থক্য আছে।’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
পূর্ব ঘৌটায় ২০১১ সালে প্রথম সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে এটাই ছিল বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি। গত এক মাসের লাগাতার হামলার পর সেখান থেকে পালানো শুরু করে বিদ্রোহীরা। ১৮ ফেব্রুয়ারি আক্রমণ শুরু করা আসাদ বাহিনী এলাকাটিতে বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে তিন অংশে বিভক্ত করে দেয়। তাদের হামলায় তখন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে কেবল শুক্রবার (৬ এপ্রিল) রাত থেকে শনিবার (৭ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত হামলায় পূর্ব ঘৌটার অন্তত ৭০ জনের নিহত হওয়ার খবর জানা যায়। আসাদ বাহিনীর বিষাক্ত সারিন রাসায়নিক গ্যাস হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেট। সিরিয়া অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে।
পরে হামলায় ৮৫ জনের নিহত হওয়ার খবর দেয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার জন্য সিরিয়ার আসাদ সরকারকে দায়ী করে আসলেও ফ্রান্সই প্রথমবার ওই হামলায় সিরীয় সরকারের জড়িত থাকার প্রমাণ থাকার দাবি করে।বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন,সিরিয়া সরকার দৌমায় রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে এমন প্রমাণ রয়েছে তাদের কাছে।‘সঠিক সময়ে’ বিমান হামলার মাধ্যমে এর জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান দৌমায় আক্রন্তদের নমুনায় বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন তারা। এর মধ্যেই সিরিয়া সরকারের মিত্র রাশিয়া ওই হামলার পেছনে যুক্তরাজ্যের জড়িত থাকার প্রমাণ থাকার দাবি তুললেন।
এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের কাছ থেকে হামলায় সমর্থন আদায়ের জন্য ট্রাম্প তার বিদেশে সফর বাতিল করেন। বুধবার তিনি একই টুইটার বার্তায় বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র আসছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার আরেক টুইটে তিনি বলেন, তিনি কখনই বলেননি অভিযানের সময়। ট্রাম্প বলেন, ‘এটা খুব দ্রুতও হতে পারে বার তাড়াতাড়ি নাও হতে পারে’। এরপর তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিরিয়া ইস্যুতে আমরা আজ বৈঠকে বসছি… আমাদের আরও কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই এগুলো খুব দ্রুতই নেওয়া হবে’।
পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ায় হামলার প্রস্তুতির কথা ভাবলেও সিরিয়ার প্রধান মিত্র রাশিয়া এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। জাতিসংঘের রাশিয়ার দূত ভ্যাসিলে নেবেনজিয়া বলেছেন, তিনি রাশিা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাদ দিতে পারছেন না। বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হবে যুদ্ধের বিপদ ঠেকানো’।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, এই মুহূর্তে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।








