অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ বিক্ষোভ জারি থাকার মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নতুন করে আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আটক করা হয়েছে এক ফিলিস্তিনিকে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রবিবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পৃথক দুটি ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি হয়েছে। এদিন নিহত এবং আটক হওয়া চার ফিলিস্তিনির দুইজনকে ‘জঙ্গি’ এবং দুইজনকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েল। এ নিয়ে ৩০ মার্চ থেকে টানা ছয় সপ্তাহের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ।
১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ মার্চ ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ‘ভূমি দিবস’ পালন করে আসছে। ওইদিন নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিলেন। তাদের স্মরণে ওই বছর থেকেই ভূমি দিবস পালন করে আসছেন ফিলিস্তিনিরা। এ বছর ওই দিনটি স্মরণে বিশাল বিক্ষোভের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ছুড়লেও তার মধ্যেই বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আন্দোলনকে ‘সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দেয় ইসরায়েল। সহিংসতার জন্য গাজা এলাকা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচিত সংগঠন হামাসকে দায়ী করে দেশটি। তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের সংগঠনটি।
রবিবার সন্ধ্যায় গাজা ইসরায়েল সীমান্ত বেড়ার কাছে দুই দফায় ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি ছোড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে তিনজন নিহত হন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র টুইটারে প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছেন। আরও এক ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীকে আটক করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে নিহত ও আটক হওয়া চার ব্যক্তির মধ্যে দুইজনকে অনুপ্রবেশকারী এবং দুইজনকে জঙ্গি আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, রবিবার প্রথম ঘটনায় দুই ব্যক্তি দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে ‘অনুপ্রবেশের চেষ্টা’ করেছে। সেনারা তাদের একজনকে গুলি করে হত্যা করেছে। আর অপরজন আহত হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি দ্বিতীয় ঘটনায় তারা দুইজন ‘জঙ্গিকে’ গুলি করে হত্যা করেছে। ওই দুই ব্যক্তি বিস্ফোরক নিয়ে ইসরায়েলি সীমান্তে ঢুকে পড়েছিল বলে দাবি তাদের। তবে তবে গাজার কোনও সশস্ত্র গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত এর দায় স্বীকার করেনি।








