জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সিদ্ধান্তটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রচেষ্টাকে অচলাবস্থায় ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডলইস্ট মনিটর জানায়, শুক্রবার (১১ মে) মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের সমন্বয়ক নিকোলায় ম্লাদেনভের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘জেরুজালেমে দূতাবাস সরানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এ অচলাবস্থা গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে।’
২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এই নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসেন মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা। এ নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট হলে মার্কিন স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১২৮টি দেশ। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৯টি দেশ। তবে তুমুল বিরোধিতা উপেক্ষা করে সোমবার (১৪ মে) জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াবিষয়ক জাতিসংঘের সমন্বয়ক নিকোলায় ম্লাদেনভের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন: ‘ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার ইস্যুকে বাদ দিয়ে এবং এর প্রান্তিকীকরণ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রের কাঠামো এমনভাবে বদলানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে মস্কো উদ্বিগ্ন।’ ল্যাভরভ আরও বলেন, ‘গুরুতর সমস্যাগুলো একত্রিত হয়ে যেকোনও মুহূর্তে বিস্ফোরিত হওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সব দেশ উদ্বিগ্ন।’
বিশ্বজুড়ে নিন্দা আর তুমুল প্রতিবাদের মধ্যেও দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হারেৎজ'র প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার জেরুজালেমে মার্কিন কনস্যুলেটের ভিসা শাখায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। আর তারপর তা জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত হবে। উদ্বোধন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা, জামাতা জ্যারেড কুশনার, অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মোনুচিন এবং কংগ্রেসের ১২ সদস্য। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রাইডম্যানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের একটা বড় অংশ দখল করে নেয়। পরে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলের সীমানা নির্ধারণ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফিলিস্তিনিরা চায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করা হোক। আর ইসরায়েলের দাবি, জেরুজালেম অবিভাজ্য। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরেই স্বতন্ত্র দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই নীতি থেকে সরে এসে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।








