সাংস্কৃতিক বিভাজন উসকে দিয়েছিলেন ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী

বিদেশ ডেস্ক
১৭ মে ২০১৮, ১৬:১১আপডেট : ১৭ মে ২০১৮, ১৬:৪১

মার্কিন জনগণের সাংস্কৃতিক বিভাজনকে উসকে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী স্টিভ ব্যানন। এজন্য তিনি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। বুধবার মার্কিন সিনেটরদের কাছে দেওয়া সাক্ষ্যে এমন তথ্য জানিয়েছেন বন্ধ হয়ে যাওয়া লন্ডনভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার সাবেক কর্মী ‘হুইসেলব্লোয়ার’ ক্রিস্টোফার উইলি। এক সময় প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ব্যানন। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

স্টিভ ব্যানন ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করেছিল কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন স্টিভ ব্যানন।

ক্রিস্টোফার উইলি মার্কিন সিনেটকে জানান, স্টিভ ব্যানন সাংস্কৃতিক বিভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে স্থায়ী পরিবর্তনের উপায় হিসেবে বিবেচনা করতেন।

তিনি জানান, তার পুরো কর্মস্থলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশে ভাড়া করা হ্যাকারদের দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হতো।

ক্রিস্টোফার উইলি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ভোটারদের মধ্যে বিভাজন তৈরির আলোচনা আমাকে ওই কর্মস্থল ছেড়ে আসতে প্ররোচিত করে। আফ্রো-আমেরিকান ভোটারদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা সংক্রান্ত নথিগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম আমি। এ সংক্রান্ত কথোপকথন এখনও আমার মনে আছে।

২৯ বছরের এই কানাডিয়ান বলেন, ‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’, ‘নর্দমার কীট সরিয়ে ফেল’- এমন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা কিংবা সীমান্ত দেয়ালের ছবিতে কিছু মানুষ সাড়া দেবে; এটা কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার জানা ছিল। এসব বিষয় মূল ধারার নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য নয়। তবে কার্যসিদ্ধির জন্য এসবের ব্যাপারেই আগ্রহী ছিলেন স্টিভ ব্যানন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইমেইলে ব্যাননের আইনজীবী উইলিয়াম বারাকের মন্তব্য চেয়েছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই মেইলের কোনও উত্তর মেলেনি।

উল্লেখ্য, দিসইজমাইডিজিটাললাইফ নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে ২০১৫ সালে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর একটি জরিপ চালায় কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা। ফেসবুকের এই অ্যাপ ছিল মূলত একটি কুইজ। এর মাধ্যমে কুইজে অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিত্বের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় তিন লাখ ২০ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী এতে অংশ নেন। অর্থাৎ কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা এই অ্যাপের মাধ্যমে তিন লাখ ২০ হাজার জনের বিস্তারিত তথ্য পেয়েছিল। শুধু তাই নয়, ফেসবুকের সেই সময়কার নীতি অনুযায়ী, অ্যাপটির মাধ্যমে ওই তিন লাখ ২০ হাজার জনের বন্ধুদের বিস্তারিত তথ্যও কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার হাতে চলে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য পায় গবেষণা সংস্থাটি। পরে এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রর গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের হয়ে এসব ডাটা কাজে লাগায় প্রতিষ্ঠানটি। যে ভোটারের ব্যক্তিত্ব যেমন তাকে লক্ষ্য করে ঠিক তেমন বার্তা পৌঁছানো হয়। সূত্র: রয়টার্স, ডয়চে ভেলে।

/এমপি/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম