ইসরায়েলের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেছেন লন্ডনের ফুটবল ক্লাব চেলসির মালিক ও রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ। নাগরিকত্ব পাওয়ার পরপরই এই ইহুদি ব্যবসায়ী দেশটির শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হয়ে গেছেন। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।
৫১ বছর বয়সী আব্রামোভিচ সোমবার সকালে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজের ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তিনি ইসরায়েলের ‘ল অব রিটার্ন’-এর আওতায় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। ওই আইন অনুযায়ী যেকোনও ইহুদি ইসরায়েলের নাগরিকত্ব পেতে পারেন। রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কূটনীতিক টানাপড়েনের কারণে যুক্তরাজ্যের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারেননি আব্রামোভিচ। এরপরই তিনি ইসরায়েলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রুশ ভাষাভাষীর দেশগুলোর অভিবাসন তদারককারী সংস্থা দ্য নেটিভ ব্যুরো বলেছে, আব্রামোভিচ বিদেশ থেকেই গত সপ্তাহে ইসরায়েলের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র চ্যানেল টেন-কে বলেন, রোমান আব্রামোভিচ অন্যান্য ব্যক্তির মতোই মস্কোতে ইসরায়েলি দূতাবাসে আসেন। তিনি অভিবাসন অনুমতির জন্য একটি আবেদন করেন। ল অব রিটার্ন অনুসারে তার কাগজপত্রাদি যাচাই করা হয়। তিনি তাতে যোগ্য বলে বিবেচিত হন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আব্রামোভিচ ১২৫০ কোটি ডলারের মালিক। সোমবার নাগরিকত্ব পাওয়ার পরই তিনি ইসরায়েলের সবচেয়ে ধনী হয়ে যান। তিনি তেল আবিবের পাশেই নেভে টিজেদিক ভবনে বাস করবেন। ভবনটি তিনি হলিউড অভিনেত্রী গাল গাদোতের কাছ থেকে কিনে নেন। নতুন নাগরিক হিসেবে আব্রামোভিচকে আগামী ১০ বছরের জন্য কোনও আয়কর দিতে হবে না। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে তাকে আয়ের উৎস সম্পর্কেও কোনও ঘোষণা দিতে হবে না।
গত মাসে আব্রামোভিচের যুক্তরাজ্যের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়। ২০১৫ সালের এপ্রিলে ভিসা আইন কঠোর হওয়ার আগে তিনি সর্বশেষ ভিসা পেয়েছিলেন। এমনকি ইসরায়েলে চলে যাওয়ার আগে আব্রামোভিচ যুক্তরাজ্যের বহুবার গমনকারী ছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্যের চ্যানেল আইল্যান্ডের জার্সি এলাকায় বাস করতেন।
এখন নতুন করে যুক্তরাজ্যের ভিসা নিতে গেলে আব্রামোভিচকে তার সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা করতে হবে। আব্রামোভিচের বিরুদ্ধে আগে এ ধরনের কোনও অভিযোগ না থাকলেও যুক্তরাজ্য রুশ ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকদের নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে গত মার্চে রুশ গুপ্তচর সার্জেই স্ক্রিপাল ও তার কন্যা ইউলিয়ার ওপর রাসায়নিক হামলার পর থেকে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। ওই ঘটনার পর অনেক কূটনীতিককে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
ভিসা না থাকার কারণে এই মাসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে চেলসির শিরোপা উৎসবে অংশীদার হতে পারেননি আব্রামোভিচ। তিনি ২০০৩ সাল থেকে ক্লাবটির মালিক। তখন থেকে ভিসা জটিলতা শুরুর আগ পর্যন্ত তিনি চেলসির প্রায় প্রতিটি খেলায় উপস্থিত ছিলেন।








