পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে উত্তর কোরিয়াকে সহসা চুক্তিতে রাজি করানোর প্রশ্নে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নজিরবিহীন বৈঠকের আশা পোষণ করলেও প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্পের ধারণা বৈঠকে সাফল্য এলেও নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে সম্মত হতে একাধিক বৈঠকের প্রযোজন হবে। শুক্রবার (১ জুন) উত্তর কোরীয় নেতার শীর্ষ সহযোগী কিম ইয়ং চোলের হোয়াইট হাউস সফরকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৩১ মে) এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও ২৪ মে উনের সঙ্গে বৈঠকটি বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে উত্তর কোরিয়াসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব হতাশা প্রকাশ করে। এরপর ২৫ মে ট্রাম্প ১২ জুন তারিখেই সিঙ্গাপুরে কিমের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে নতুন করে ইঙ্গিত দেন। ২৬ মে সংবাদ সম্মেলনেও এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আবার ২৬ মে আকস্মিক বৈঠক করেন উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা। ২৭ মে সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।
কিম ইয়ং চোলের হোয়াইট হাউস সফরের আগে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে বসেই রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে সহসা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই এক বৈঠকেই এ কাজটি হয়ে যাক। কিন্তু অনেক সময়ই এভাবে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। একটি বৈঠক অথবা দুটি বৈঠক কিংবা তিনটি বৈঠকেও প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছানো না যেতে পারে। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে এর অগ্রগতি হবে।’
অতীতে একতরফা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করতে দেখা গেছে উত্তর কোরিয়াকে। দেশটি যুক্তি দেখিয়ে বলেছিল, গোটা কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণ চাইলে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের উপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ছায়া সরিয়ে নিতে হবে। পিয়ং ইয়ং-এ কিম বলেন, তার দেশ চায় কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ‘অপরিবর্তিত, অবিচল এবং স্থির’ থাকুক। কিন্তু তিনি আশা প্রকাশ করেন, উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কোন্নয়নের মধ্য দিয়ে ‘ধাপে ধাপে’ এর সমাধান করা যাবে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির খবরে কিমকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘নতুন যুগে এবং নতুন পরিস্থিতির আওতায় এবং ইস্যুগুলো সমাধান করার মধ্য দিয়ে একে অপরের স্বার্থ মেটাতে গেলে কার্যকরী এবং গঠনমূলক সংলাপ ও আলোচনার প্রয়োজন হবে।’ তিনি আশা করেন এর মধ্য দিয়ে সমাধানের পথ পাওয়া যাবে।








