ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় তিন মাসেরও কম সময়ে ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মার্চের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত ১২৩ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১৩ হাজার ফিলিস্তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৩ শিশু ছাড়াও দুইজন চিকিৎসাকর্মী এবং দুইজন সাংবাদিক রয়েছেন।
আহত ১৩ হাজারের মধ্যে দুই হাজার ২০০টি শিশু এবং ১৪০ জন নারী রয়েছেন। এতো বিপুল সংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া গাজার হাসপাতালগুলোর পক্ষে কঠিন।
গাজার হাসপাতালগুলোর প্রধান আবদুললতিফ আল হাজ বলেন, হাসপাতালগুলোতে ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট রয়েছে। যেসব সামগ্রী আসছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
এদিকে গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনের স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসাকর্মী রাজান আল নাজারের (২১) জানাজায় অংশ নিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ২ জুন শনিবার তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন তার মরদেহ নিয়ে শোক মিছিল করেন ফিলিস্তিনিরা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, জানাজা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় গাজা থেকে ইসরায়েলে রকেট হামলা হয়েছে। জবাবে তারা গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার (১ জুন) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় নিহত হন নাজার। সে সময় তিনি গাজা সীমান্তে আহত বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। বিক্ষোভ চলার সময় আহত একজনকে চিকিৎসা দিতে তিনি ইসরায়েল সীমান্তের কাছে ছুটে যান। সেখানেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাকে গুলি করে হত্যা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন নাজার পেশাদার চিকিৎসাকর্মীদের মতো সাদা পোশাক পরে ছিলেন। তার ওপর তিনি ইসরায়েলি সেনাদের উদ্দেশে দুই হাত উপরে তুলে সংকেতও দিয়েছিলেন। তারপরও তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে নিয়োজিত এই স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসাকর্মী।
আল জাজিরা’র প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার নাজারের জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। তার মৃতদেহ ফিলিস্তিনি পতাকায় ঢেকে শোক মিছিল বের করা হয়। নাজারের শোকার্ত বাবার হাতে ছিল মেয়ের রক্তমাখা মেডিক্যাল জ্যাকেট। জানাজায় উপস্থিত জনতা নাজার হত্যার প্রতিশোধের আহ্বান জানান।
দ্য প্যালেস্টাইন মেডিক্যাল রিলিফ সোসাইটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চিকিৎসাকর্মীর ওপর গুলি ছোড়াকে জেনেভা কনভেনশনের আওতায় যুদ্ধাপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়।’








