আরব বিশ্বের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের’ পথে হাঁটছে ইসরায়েল

বিদেশ ডেস্ক
০৯ জুন ২০১৮, ২০:০০আপডেট : ০৯ জুন ২০১৮, ২০:১০

আরব দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতিতে এগোচ্ছে ইসরায়েল। ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, শুধু ইরানের হুমকির কারণে বেশিরভাগ আরব দেশ প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সংস্পর্শে আসছে না। অথচ তারা ইসরায়েলি প্রযুক্তি থেকেও লাভবান হতে চায়। আরব জাহানে মাত্র এক শতাংশ ফিলিস্তিনি রয়েছে দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, ৯৯ শতাংশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলে চূড়ান্তভাবে এক শতাংশের সঙ্গেও শান্তি স্থাপিত হবে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরব দেশগুলোর মধ্যে শুধু জর্ডান ও মিসর ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের নাটকীয় উন্নতির খবর এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে। ২০১৮ সালেই প্রথমবারের মতো ভারত-ইসরায়েল বিমান চলাচলে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়াকে আকাশসীমা ব্যবহারের এ অনুমতি দেয় রিয়াদ। সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তে ৭০ বছরের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে প্রথমবারের মতো দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার করে ইসরায়েলমুখী বিমান চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়। মার্কিন ইহুদিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ইসরায়েলি নাগরিকদের অধিকারের ওপর জোর দেন।

লন্ডন সফরের সময় গত বৃহস্পতিবার বিবিসি টেলিভিশনের নিউজনাইট অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ওই অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, তার বিশ্বাস আরব দেশগুলোর সঙ্গে আরও নিবীড়ভাবে কাজ করা হবে ‘শান্তির পথে অগ্রযাত্রা’। তবে আরব দেশগুলোর সঙ্গে কখনওই সম্পর্ক ভালো ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কখনওই বিশ্বাস করতে পারিনি যে, আমার জীবদ্দশায় আরব রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে এ ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।’

তিনি বলেন, সবচেয়ে আশাপ্রদ বিষয় হচ্ছে, কয়েকটি আরব দেশের জনমতকে এটা প্রভাবিত করা শুরু করেছে। তারা ইসরায়েলকে নিয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শুরু করেছে। এর জন্য ইসরায়েল দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করেছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেনেশুনে আরব দেশগুলোর সঙ্গে এই সহযোগিতার নীতি অনুসরণ করছি শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের কারণে নয় বরং আমার বিশ্বাস এটা শান্তির পথ।’

এ বছরের মার্চে মিডলইস্ট আই এক বিশেষ রিপোর্টে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সম্পর্ক গভীর হওয়ার খবর দেয়। ওই খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’তে সমর্থন জানিয়েছে রিয়াদ। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা ট্রাম্পের ওই প্রস্তাবনার অংশ বলে মনে করা হয়।

মার্চে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা মিডলইস্ট আইকে বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সমর্থন না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আরব মিত্ররা এ চুক্তি কার্যকর করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এ চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ফিলিস্তিনিদের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেম ছেড়ে দিয়ে ১৯৪৮ এবং ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলের দখল করা ভূমিতে ফিলিস্তিনিদের ফেরার অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হবে।

গত নভেম্বরে মিডলইস্ট আই জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দ্রুত গতিতে অগ্রসর হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জর্ডানের বাদশাহ।

বৃহস্পতিবারের নিউজনাইটে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা অভ্যন্তরীণ স্বাভাবিকীকরণ সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, আরব দেশগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক হয়ে গেলে মিসর ও জর্ডানের মতো পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির প্রয়োজন না পড়লেও চূড়ান্তভাবে তা আরব বিশ্বের এক শতাংশ ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রভাব ফেলবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলবো ৯৯ শতাংশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক হলে এক শতাংশের সঙ্গেও শান্তি স্থাপন সম্ভব, যদিও আমি মনে করি একটার পরই আরেকটা হয়ে যাবে।’

নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের কাছ থেকে একই ধরনের হুমকি পেতে থাকায় ইসরায়েল আর আরব রাষ্ট্রগুলো আরও কাছাকাছি আসছে। এছাড়াও আরব দেশগুলো ইসরায়েলি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন থেকে লাভবান হতে চায়।

তিনি বলেন, আরব ও ইসরায়েলিদের মধ্যে আজ যে সম্পর্ক চলছে তাতে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বেশিরভার আরব দেশগুলোর সরকার ইরানের হুমকির কারণে এখন ইসরায়েলের কাছে আসছে। কারণ তারা বুঝতে পারছে আমরা এমন কিছু করতে পারবো যা ইরানের টিকে থাকাকে হুমকির মুখে ফেলে দেবে। দ্বিতীয়ত, তারা বেসামরিক প্রযুক্তির সুবিধা বুঝতে শুরু করেছে।

নেতানিয়াহু বলেন, তারা একটি উন্নততর জীবন চায়। আর তারা জানে যে, এসব উদ্ভাবনের উৎসমূল হচ্ছে ইসরায়েল। যা পরিবর্তন আনতে পারবে আর তাদের জীবনকে উন্নত করতে পারবে।

/জেজে/এমপি/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম