আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশের অবরোধ আরোপের পর এক বছরের মাথায় তাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার। চার দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলেও আমিরাতের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব দেশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে সোমবার জানিয়েছে আরব সাগরের তীরবর্তী সম্পদশালী দেশ কাতার।
সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগ এনে ২০১৭ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও মিশর কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে। ছিন্ন করা হয় কূটনৈতিক ও সব ধরণের পরিবহন যোগাযোগ। তবে বরাবরই তাদরে বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে আসছে দোহা। কাতারের দাবি এই অবরোধের লক্ষ্য হলো দোহার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করা।
ওই অবরোধ আরোপের এক বছরের মাথায় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে দোহা সরকার বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে কাতারের আবেদনে চার দেশের বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও, আমিরাত এই কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়েছে। যার কারণে কাতারি জনগণ ও এখানকার বাসিন্দাদের মানবাধিকারের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে।’
বিবৃতিতে কাতারের সরকার বলছে, আমিরাতের নেওয়া একের পর এক পদক্ষেপের কারণে কাতারি জনগণের ওপর বৈষম্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমিরাত থেকে তাদের বহিষ্কার, কাতারের অভ্যন্তরে প্রবেশ ও তাদের অভ্যন্তর দিয়ে যাতায়াতে বাধা দেওয়া, আমিরাতের নাগরিকদের কাতার ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া ও কাতার সংলগ্ন আমিরাতের বিমান ও সমুদ্র বন্দর বন্ধ করে দেওয়া।
কাতার বলছে, তাদের বিশ্বাস এসব পদক্ষেপ সব ধরণের বর্ণবাদী বৈষম্য বিলোপের আন্তর্জাতিক কনভেনশনের লঙ্ঘন। কাতারের দাবি কনভেনশন অনুযায়ী জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ। এই কনভেনশনে কাতার এবং আমিরাত দুই দেশই স্বাক্ষর করেছে। তবে সৌদি আরব, বাহরাইন ও মিশর এতে স্বাক্ষর করেনি।
জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী ১৯৪৫ সালের জুনে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। জাতিসংঘের ছয়টি মূল অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের একটি আইসিজে। ১৫ বিচারকের আদালতটি আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সদস্য দেশগুলোর দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে আইনি উপদেষ্টা মতামত জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সংস্থা ও বিশেষায়িত সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দেয়।
কাতারের আবেদনে আইসিজে’র কাছে আমিরাতকে বর্ণবাদী বৈষম্য বিলোপের আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কাতারি জনগণের অধিকার পুর্নবহালের আবেদনও জানানো হয়েছে ওই আবেদনে।
ওই আবেদনে কাতারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হলেও তার পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।








