ফের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার। ফলাফলের জন্য উদ্বেগে ছিলেন দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩৯ লাখ শরণার্থী। তারা সবাই জানতেন, এই নির্বাচনের ফলাফলের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে তাদের ওপর। অনেকের মতে, ‘মন্দের ভালো’ ছিলেন এরদোয়ান। শরণার্থীদের জন্য তাই তার ক্ষমতায় আসা জরুরি ছিল। অন্য কেউ নির্বাচনে জয়লাভ করলে দেশটিতে থাকা কঠিন হয়ে পড়তো তাদের। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী দেশ তুরস্কে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শরণার্থীর বসবাস। পাশেই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ও ইরাক থেকে লাখ লাখ মানুষ দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছে। সিরীয়, ইরাকি, আফগান কিংবা মিশরীয় সব শরণার্থীরাই জানতো তাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই ফলাফলের ওপর।
এরদোয়ানের জয়ে খুশি অনেক শরণার্থী। স্বাগতই জানাচ্ছেন তাকে। ইরাকি শরণার্থী মোহাম্মদ হামদান বলেন, আমি এরদোয়ানকে সমর্থন করি। কারণ, তিনি ইসলামিক দেশগুলোকে ভাইয়ের মতোই দেখে। আমি আমার দেশে যুদ্ধ দেখেছি। আশ্রয় নেওয়ার জন্য আমার কাছে তুরস্কের চেয়ে ভালো স্থান ছিল না।’
মিশরীয় এক শরণার্থী বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী এরদোয়ানকে সমর্থন দিয়েছি। যেকোনও মিশরীয় শরণার্থী তাই করবে। তিনি আমাদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন। সিসির কাছ থেকে পালিয়ে আসার পর তুরস্কেই শুধুমাত্র আমাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং কাজ করার অধিকার দিয়েছে।’
তবে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। সিরীয় শরণার্থী ওসামা দোমেন বলেন, তিনি দেশে ঢোকার সময় ভয়াবহ নিপীড়নের মুখে পড়েছিলেন। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক। আর শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি এরদোয়ানের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে এতে।
মধ্যবয়সী মিশরীয় নারী সানা বলেন, এরদোয়ান ও তার দল বিরোধীদলের প্রতি বিরূপ আচরণ করেছেন। তার অনেক কিছুই আছে যা আমার পছন্দ না। তার সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন অনেককে চিনি আমি। ’
তবে ভুল করলেও এরদোয়ানকে স্বাগত জানান তিনি। সানা বলেন, অন্য কেউ প্রেসিডেন্ট হলে শরণার্থীদের বিপদ আরও বাড়তো। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত ছিলাম অন্য কেউ জিতবে। আর সেটা হলে আমাদের তুরস্ক ছেড়ে চলে যেতে হতো। আমরা এখানে আর নিরাপদবোধ করতাম না।’
২৯ বছর বয়সী সিরীয় শরণার্থী আলা আল মাশাদানে বলেন, আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন কাকে ক্ষমতায় দেখতে চাই, আমি বলতে পারবো না। তবে অন্য প্রার্থীরা এরদোয়ানের চেয়েও বাজে হতেন। তিনি সিরীয় সমর্থন চান। তিনি আমাদের জন্যে ‘কম খারাপ’ পছন্দ।
ইস্তাম্বুলের মেয়র থাকার পর ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন এরদোয়ান। ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ২০১৬ সালে এক 'ব্যর্থ গণঅভ্যুত্থানের' মুখে পড়েন তিনি। সামলে নিয়ে পরের বছর এক গণভোটে সামান্য ব্যবধানে জয় পান তিনি। এতে তিনি দেশটিকে সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় পান। এবারের নির্বাচনে তার জয়ের ফলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত হবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সরকারি কর্মকর্তা, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রীদের নিয়োগ দেবেন এবং যেকোনও সময় সংসদ ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন।








