বেসামরিক রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের প্রতি বাংলাদেশের আহ্বান

ললিত কে ঝা, যুক্তরাষ্ট্র
২৭ জুন ২০১৮, ১৫:৫৮আপডেট : ২৭ জুন ২০১৮, ১৬:০৬

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে বেসামরিকদের সুরক্ষার দায়িত্ব অস্বীকারকারী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশল বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের নামেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। সংস্থাটিতে থাকা বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে যেন কোনও সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে টার্গেট না বানানো যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে

বেসামরিক রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের প্রতি বাংলাদেশের আহ্বান

নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার সন্ত্রাসী হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাখাইন থেকে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সমস্ত পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। ঢাকা ট্রিবিউন এক সরেজমিন কক্সবাজার পরিদর্শনে জাতিসংঘের সেই প্রতিবেদনের যথার্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। সেখানকার শরণার্থী শিবিরে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাখাইনে সেনাবাহিনীর তাণ্ডব শুরু হয়েছিলো ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা চেকপোস্টে হামলার অন্তত ৩ সপ্তাহ আগে থেকে। ঘটনার ৮দিন আগে ১৭ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর খবর প্রকাশিত হয়েছিলো বাংলা ট্রিবিউনেও। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও আরসার হামলাকে রাখাইনে সেনা অভিযানের কারণ মনে করেন না। বরং সেনা অভিযানে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ আরসার হামলার পাটাতন তৈরি করেছে বলে মনে করেন তারা। তবে মিয়ানমার শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা রাখাইনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে।

সাধারণ পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের নাম করে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন চালানো হয়েছে। ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার আইনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মর্মান্তিক ও নির্বিচার পরিণতি হিসেবে রোহিঙ্গা সংকট তৈরি হয়েছে যা জাতিগত নিধনের পর্যায়ে চলে গেছে। বাংলাদেশে আমরা এই বিপর্যয়ের কারণে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভোগান্তিতে আছি’।  মোমেন বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে দ্বৈত নীতি খারিজ করা জরুরি যাতে কোনও সদস্য দেশ সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নামে নিজ দেশের বেসামরিক লোকদের সুরক্ষার দায়িত্ব এড়াতে না পারে’।

সীমান্তের কাছে ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন প্রত্যাখ্যান বা বাধাগ্রস্ত করার জন্য সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতাকে ব্যবহার না করার জন্য মিয়ানমার ও তাকে সমর্থনকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের এই শীর্ষ কূটনীতিক। ‍তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তার দর্শন মেনে আমাদের সরকার বাংলাদেশকে প্রতিবেশি কোনও দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল হতে না দিতে বদ্ধপরিকর’।  

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সব দেশের শক্তিশালী সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস হয়। এই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো ঠেকানোর শর্ত বিষয়ে টেকসই ও ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে জাতিসংঘ।  প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ শুধুমাত্র সামরিক বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দমন করা যাবে না। এতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রচেষ্টায় আইনের শাসনকে অবজ্ঞা করা হলে তা শুরু সমুন্নত রাখতে চাওয়া মূল্যবোধের সঙ্গেই প্রতারণা করা হয় না। এর মাধ্যমে সহিংস চরমপন্থাকে নতুন করে উস্কে দেওয়া হয়।

জাতিসংঘে মিয়ানমারের প্রতিনিধি হাও দো সুয়ান বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ আজকের বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অনত্যম মারাত্মক হুমকি। আর এ ক্ষেত্রে বিদেশি সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের প্রত্যাবাসন ও স্থানান্তর দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে মারাত্মক হুমকিগুলোর একটি’। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের এই বহুজাতিক ও বহুমুখী প্রকৃতির বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অবশ্যই বহুপাক্ষিক সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিতে হবে’।  হাও দো সুয়ান আরও বলেন, আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি-আরসাকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সমর্থনের বিষয়ে মিয়ানমার উদ্বিগ্ন।  

জাতিসংঘে ভারতের সহকারী স্থায়ী প্রতিনিধি তন্ময় লাল বলেন, প্রস্তাবটি প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে তা দুই বছর আগে নেওয়া প্রস্তাবের একটি কৌশলগত উন্নয়ন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী মানুষকে যুক্ত করছে, মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়াচ্ছে, তাদের ঘৃণার আদর্শ প্রচার করছে, বিভিন্ন দেশ থেকে জনবল নিয়োগ দিচ্ছে আর তাদের আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করছে।

 

 

/আরএ/ বিএ/
সম্পর্কিত
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন
রয়টার্সের বিশ্লেষণভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাংলাদেশে প্রভাব বাড়াতে চায় চীন
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতানির্বাচন ঘিরে বাইরের দেশ থেকে আসছে মিথ্যা তথ্যের ঢেউ
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম